শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে ভারতে কনডম উৎপাদনে ধস, চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে ভারতে কনডম উৎপাদনে ধস, চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা
ছবি: India today

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব এবার এসে পড়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের উৎপাদন খাত ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। দেশটির আট হাজার একশো সত্তর কোটি রুপির বিশাল কনডম উৎপাদন শিল্প বর্তমানে এক নজিরবিহীন সরবরাহ সংকটের মুখে পতিত হয়েছে।

 

বাজারে এই অতিপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেওয়ার পাশাপাশি খুচরা পর্যায়ে এর দাম শতকরা পঞ্চাশ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার এক গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এই আকস্মিক ঘাটতির কারণ হিসেবে অভ্যন্তরীণ চাহিদার কোনো অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধিকে দায়ী করা হচ্ছে না; বরং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে বাধা এবং উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য উপাদানগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়াই এর মূল কারণ।

 

ভারত প্রতি বছর চারশো কোটিরও বেশি কনডম উৎপাদন করে থাকে। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এইচএলএল লাইফকেয়ার লিমিটেড, ম্যানকাইন্ড ফার্মা এবং কিউপিড লিমিটেডের মতো বৃহৎ উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। কেবল এইচএলএল লাইফকেয়ার একাই দেশটিতে বছরে প্রায় দুইশো একুশ কোটি স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী তৈরি করে।

উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ রাসায়নিক বা পেট্রোকেমিক্যাল, পিচ্ছিলকারক পদার্থ হিসেবে ব্যবহৃত সিলিকন অয়েল এবং কাঁচা ল্যাটেক্সকে স্থিতিশীল রাখতে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, বিশ্ববাজারে অ্যামোনিয়ার দাম অচিরেই চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু রাসায়নিক নয়, বরং পিভিসি ফয়েল ও অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের মতো মোড়কজাতকরণ সামগ্রীর সরবরাহ সীমাবদ্ধতা এবং দামের চরম অস্থিরতাও সামগ্রিক উৎপাদনকে ব্যাহত করছে। পরিবহন খাতের বৈশ্বিক বিপর্যয় এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

ভারতের একশো চল্লিশ কোটি মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে এই পণ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য যে ‘ব্যাপক বাজারজাত এবং স্বল্প মুনাফা’ নীতি অনুসরণ করা হতো, তা এখন চরম হুমকির সম্মুখীন। কাঁচামালের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক উৎপাদন খরচ এখন পুরোপুরি অনিশ্চিত ও লাগামহীন হয়ে পড়েছে।

গত এগারোই মার্চ ভারতের এক আন্তঃমন্ত্রণালয় ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছিল, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপরিহার্য চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাগুলোতে সম্পদ বরাদ্দ পয়ত্রিশ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে উৎপাদকদের জন্য কাঁচামাল সরবরাহ আরও ব্যাপকভাবে সংকুচিত হবে।

অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বের সাথে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই সংকটের কারণে দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পরিবার পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন এবং যৌনবাহিত সংক্রামক ব্যাধি রোধে এই সুরক্ষা সামগ্রী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দাম বৃদ্ধি বা অপ্রতুলতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এর ব্যবহার কমে গেলে তা মারাত্মক সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত সংকটের জন্ম দিতে পারে।

ইন্ডিয়া টুডের তথ্যমতে, ইতিমধ্যে নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো প্রধান শহরগুলোর ওষুধের দোকানগুলোতে এই পণ্যের সরবরাহে মারাত্মক অনিয়ম ও ঘাটতি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠতে শুরু করেছে, যা আসন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।

 

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।