শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্যচুক্তি করছে ভারত ও রাশিয়া

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্যচুক্তি করছে ভারত ও রাশিয়া
ছবি: Collected

বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ১০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে একটি উচ্চাভিলাষী ও কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দুই দেশ।

 

নয়াদিল্লি ও মস্কোর এই যৌথ উদ্যোগ কেবল অর্থনৈতিক লেনদেন নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত মিত্রতার এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত বছর দুই দেশের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে।

 

রাশিয়ায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার সোমবার ভারতের বৃহত্তম সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বছরটি ছিল দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে ভারতের পক্ষ থেকে বাণিজ্য সম্প্রসারণের যে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিল, তা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গৃহীত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।

 

রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইতিমধ্যেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা শুরু হয়েছে এবং বাণিজ্যের তালিকায় নিত্যনতুন উপাদান যুক্ত হচ্ছে। নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা ‘ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে উভয় পক্ষ।

 

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার, যা দুই দেশের বাণিজ্যের ইতিহাসে একটি সর্বকালের রেকর্ড। যদিও বর্তমানে এই বিশাল বাণিজ্যের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি, তবে নতুন চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যের ভারসাম্য ও পণ্যের বৈচিত্র্য আনার জোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

এছাড়া, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে গত দুই বছর ধরে বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ডলারের পরিবর্তে নিজস্ব মুদ্রা ‘রুপি’ ও ‘রুবল’ ব্যবহারের যে ধারা চালু হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করেছেন।

 

উল্লেখ্য, গত মাসেই ভারত সফরে এসেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিপাক্ষিক মিত্রতা ও বাণিজ্য সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন।

 

এই নতুন চুক্তি সেই রাজনৈতিক সদিচ্ছারই বাস্তব প্রতিফলন। বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার মাঝেও দুই পরাশক্তির এই অর্থনৈতিক মেলবন্ধন দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

 

- Economic Times