এই সৌজন্য সাক্ষাৎ কেবল রোগীর খোঁজ নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা, প্রধান সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এবং দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নেওয়ার পর নেতারা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। এ সময় ডা. তাসনিম জারা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সারা জীবন সব ধরনের সংকীর্ণ রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে সংগ্রাম করেছেন। আজ তিনি যখন হাসপাতালের বিছানায় লড়ছেন, তখন দলমত নির্বিশেষে সবার উচিত তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করা।
ডা. জারার এই বক্তব্যে রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে মানবিকতার এক শক্তিশালী বার্তা ফুটে ওঠে। দলের অন্যতম সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ দেশের বর্তমান ক্রান্তিকালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি দীর্ঘ ও কঠিন গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হিসেবে আমরা বেগম জিয়াকে আমাদের মাঝে সুস্থভাবে দেখতে চাই।
তিনি বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বেগম জিয়াকে নূন্যতম মানবিক অধিকার ও যথাযথ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। সেই বঞ্চনার ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে তিনি পুরো জাতির কাছে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীও সবার প্রতি একই আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের সবার একমাত্র করণীয় হলো মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা। তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, যেন সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতের অনুসারী হয়েও তরুণ নেতাদের এই হাসপাতালে যাওয়া এবং সহমর্মিতা প্রকাশ করা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। এটি প্রমাণ করে যে, মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ রাজনৈতিক মতাদর্শের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে।