শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিপুল জনসংখ্যাকে অভিশাপ নয়, বরং বাংলাদেশের প্রধান আশীর্বাদ বললেন শিক্ষামন্ত্রী

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

বিপুল জনসংখ্যাকে অভিশাপ নয়, বরং বাংলাদেশের প্রধান আশীর্বাদ বললেন শিক্ষামন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যাকে কোনোভাবেই সমস্যা বা অভিশাপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, বরং এটি দেশের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি ও আশীর্বাদ বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, বিশ্বের অন্যতম জনবহুল একটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে পথ দেখানোর অসীম সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে।

 

শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মূল্যবোধের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রাজনীতি হতে হবে কেবলই সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য, কোনোভাবেই ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নয়।

 

সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান তথা ‘জুলাই ছত্রিশ’-এর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি সতর্ক করেন যে, এই ঐতিহাসিক ঘটনার পরও দেশের রাজনীতিকরা যদি প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ না করেন, তবে ভবিষ্যৎ অত্যন্ত অনিশ্চিত।

 

বর্তমান সরকারপ্রধানের শিক্ষাবিষয়ক ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশে অবস্থানকালে উন্নত দেশের শিশুদের পরিপাটি হয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া দেখে বাংলাদেশের জন্য ঠিক তেমনি একটি স্বপ্ন বুনতেন।

 

এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময় এসেছে এবং সেই নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের পুরোনো শিক্ষাকাঠামোকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানোর মহাকর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে।

 

দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়নের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার চিত্র তুলে ধরে ড. মিলন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সর্বপ্রথম শিশুদের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি এবং পরবর্তীতে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি চালু করেছিলেন।

 

সমাজ পরিবর্তনে তিনি মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি ও পরবর্তীতে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত উপবৃত্তি চালু করেন এবং ছেলেদের জন্যও এমন উদ্যোগ নেন। তার একান্ত স্বপ্ন ছিল এই উপবৃত্তিকে ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত প্রসারিত করার।

 

পরবর্তীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই অসম্পূর্ণ স্বপ্ন সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছেন, যার মাধ্যমে বর্তমানে মেয়েদের ডিগ্রি পর্যন্ত উপবৃত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়েছে। এটি মূলত রাষ্ট্র পরিচালনায় পূর্বসূরির আদর্শ ও দূরদৃষ্টির এক অনন্য সফল ধারাবাহিকতা।

 

শিক্ষার্থীদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নিশ্চিতে বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবার প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক ও যুগোপযোগী করতে ‘আনন্দময় পাঠদান’ পদ্ধতি, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং পারিবারিক, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধকে আধুনিক পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

 

এছাড়া শিক্ষার্থীদের মেধা ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রাথমিক স্তর থেকেই সাঁতার ও দাবা খেলার মতো বিষয়গুলো যুক্ত করার কাজ চলছে। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাত্র ষোলো দিনের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

 

মন্ত্রী বলেন, সেই স্বল্পতম সময়ে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে যে অভাবনীয় পরিবর্তন এবং প্রযুক্তির সাহায্যে নকল রোধে যে দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা আজও বিস্ময়কর।

 

অনুষ্ঠানে রোটারি ইন্টারন্যাশনালের নিঃস্বার্থ সেবামূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, তাদের প্রস্তাবিত নৈতিকতার চারটি সত্যকে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত ইতিবাচক। কারণ, শৈশবে গভীরভাবে প্রোথিত হওয়া সঠিক মূল্যবোধই একটি শিশুকে আজীবন সঠিক পথে পরিচালিত করে।