রবিবার, জুন ৭, ২০২৬
২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে গ্যাস লিকেজে একই পরিবারের তিনজনসহ দগ্ধ ছয়জন

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ জুন, ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম

রাজধানীতে গ্যাস লিকেজে একই পরিবারের তিনজনসহ দগ্ধ ছয়জন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় গ্যাস লিকেজ বা ছিদ্র থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দুটি পৃথক ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন সদস্যসহ মোট ছয়জন মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন।

 

শনিবার সংঘটিত এই দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় আহত সবার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বর্তমানে তাঁদের প্রত্যেককে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

 

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর উত্তরখান এলাকায়। জানা যায়, ওই এলাকার একটি বাড়ির রান্নাঘরে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগে থেকেই গ্যাস বের হয়ে জমে ছিল।

 

সকালে রান্না করার জন্য আগুন জ্বালাতে গেলে সেই গ্যাস থেকে আকস্মিকভাবে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই পরিবারের তিনজন সদস্য অগ্নিদগ্ধ হন। এই দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন গৃহকর্তা আলী হোসেন, তাঁর স্ত্রী হাসনাহেনা এবং তাঁদের মেয়ে আঁখি।

 

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় আলী হোসেনের শরীরের শতভাগ পুড়ে গেছে, যা অত্যন্ত জীবনঘাতী।

 

পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী হাসনাহেনার শরীরের ষাট শতাংশ এবং তাঁদের মেয়ে আঁখির শরীরের পনেরো শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে দগ্ধ দম্পতির আরেক সন্তান রাতুল হাসান তুষার ভারাক্রান্ত কণ্ঠে জানান, তাঁর বাবা এবং মায়ের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা তাঁকে নিশ্চিত করেছেন।

 

বর্তমানে দগ্ধ তিনজনকেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। অন্যদিকে, শনিবার ভোররাতের দিকে রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় অপর একটি গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যেখানে তিন যুবক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।

 

জানা যায়, ওই স্থানে পাইপলাইনের গ্যাস ছিদ্র হয়ে আগে থেকেই চারপাশের পরিবেশে গ্যাস জমে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ঠিক সেই সময়ে সেখানে সিগারেট ধরানোর উদ্দেশ্যে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করা হলে চোখের পলকে এক বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে।

 

এই ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ আহত যুবকেরা হলেন ছাব্বিশ বছর বয়সী মিরাজ, চব্বিশ বছর বয়সী সুজন এবং চব্বিশ বছর বয়সী বিপ্লব। এই দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি প্রসঙ্গে বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, ভোরবেলায় ঘটা এই আকস্মিক বিস্ফোরণে মিরাজের শরীরের পনেরো শতাংশ, সুজনের শরীরের চব্বিশ শতাংশ এবং বিপ্লবের শরীরের দশ শতাংশ আগুনে পুড়ে গেছে।

 

দুর্ঘটনা ঘটার পরপরই তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে এবং সংক্রমণ এড়াতে এই তিনজনকেও তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।