ফরাসি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির হাতে পৌঁছানো ওই সংবেদনশীল নিরাপত্তা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, নাইজার সীমান্তবর্তী কেব্বি রাজ্যের আরেওয়া জেলার অন্তর্গত ফেসকেন রাফি সম্প্রদায়ের ওপর রহস্যময় ও দুর্ধর্ষ উগ্রপন্থী গোষ্ঠী 'লাকুরাওয়া'-এর সদস্যরা এই নৃশংস তাণ্ডব চালিয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রশাসনিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা যায়, এই প্রাণঘাতী হামলার সুনির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে গত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কেব্বি রাজ্যের উপ-গভর্নর ওই ক্ষতিগ্রস্ত ও শোকস্তব্ধ এলাকা পরিদর্শনে গেলে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসে।
জাতিসংঘের ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত কয়েক মাস ধরে লাকুরাওয়া গোষ্ঠীর সহিংস কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে অনেকটাই স্তিমিত ছিল।
কিন্তু সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ হামলার মাধ্যমে তারা পুনরায় নিজেদের বিধ্বংসী শক্তিমত্তার জানান দিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দেশটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান ও জোরদার অভিযানের মুখেও যে তারা অত্যন্ত জটিল ও সুপরিকল্পিত সশস্ত্র অভিযান পরিচালনায় সক্ষম, মূলত সেই ভীতিকর বার্তাই দিতে চাইছে উগ্রপন্থী এই গোষ্ঠীটি।
এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির ওপর আন্তর্জাতিক সামরিক পদক্ষেপের একটি অতীত ইতিহাস রয়েছে। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ার বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ও ধ্বংসাত্মক বিমান হামলা চালিয়েছিল।
সেই সময় নাইজেরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় যে, মার্কিন ওই সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল কুখ্যাত জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর যোদ্ধা, এই লাকুরাওয়া জিহাদি গোষ্ঠী এবং স্থানীয় বেশ কিছু দুর্ধর্ষ সশস্ত্র অপরাধী চক্র।
তবে ওই মার্কিন বিমান হামলায় ঠিক কতজন হতাহত হয়েছিল এবং নিহতরা সুনির্দিষ্টভাবে কোন গোষ্ঠীর সদস্য ছিল, সেই পরিসংখ্যান এখনো পুরোপুরি অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
ফেসকেন রাফি সম্প্রদায়ের ওপর চালানো সাম্প্রতিক এই নির্মম হামলার পেছনের মূল উদ্দেশ্য এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার না হলেও, নাইজেরিয়ার সার্বিক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে চরম উদ্বেগজনক।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে জিহাদি গোষ্ঠী এবং স্থানীয়ভাবে ডাকাত নামে পরিচিত সশস্ত্র গবাদিপশু চোরাকারবারি চক্রগুলো সাধারণ ও খেটে খাওয়া কৃষকদের ওপর প্রতিনিয়ত হামলা ও অপহরণের মতো ভয়ংকর অপরাধ ঘটিয়ে চলেছে।
নিজেদের আবাদি জমিতে স্বাধীনভাবে চাষাবাদ করার অধিকার পেতে এই অপরাধীদের দাবিকৃত অবৈধ কর বা চাঁদা প্রদানে ব্যর্থ হলেই নিরীহ কৃষকদের জোরপূর্বক অপহরণ করে চরম শারীরিক নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে।
এর ফলে পুরো অঞ্চলের সাধারণ জনজীবনে এক গভীর আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে, যা মোকাবিলায় স্থানীয় ও জাতীয় প্রশাসনকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে।