মর্মান্তিক এই ঘটনায় আরও বহু মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে। কম্বোলচা শহরের প্রশাসনিক পুলিশ বিভাগের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যমতে, দুর্ঘটনাকবলিত ওই যাত্রীবাহী বাসটি ডেসি এলাকা থেকে রাজধানী আদ্দিস আবাবার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল।
পথিমধ্যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, সরু ও খাড়া একটি পাহাড়ি মহাসড়কে চালক বাসের নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি সজোরে পার্শ্ববর্তী খাদে ছিটকে পড়ে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বাসটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় যাত্রী থাকায় দুর্ঘটনার তীব্রতা ও হতাহতের পরিমাণ এত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
উল্লেখ্য, সংঘাতকবলিত ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চরম অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বিরাজমান থাকায় দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে গিয়ে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে।
দুর্ঘটনার পর পরই এলাকায় জরুরি সেবার মারাত্মক ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। দুর্গম পথ এবং যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে মুমূর্ষু যাত্রীদের উদ্ধারে বড় ধরনের বিলম্ব ঘটে।
ফলে স্থানীয় জনসাধারণ এবং উদ্ধারকর্মীরা বাধ্য হয়ে সাধারণ যাত্রীবাহী যানবাহনে করেই আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।
স্থানীয় কর্মকর্তারা গভীর বেদনা ও উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে ন্যূনতম চিকিৎসা সহায়তার অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় দুর্ঘটনাস্থলেই অনেক আহত যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
সঠিক সময়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে হয়তো নিহতের এই দীর্ঘ তালিকা অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো। ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, তার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, যে পাহাড়ি মহাসড়কটিতে বাসটি গভীর খাদে পড়ে যায়, সেটি দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত।
মূলত ইথিওপিয়ায় দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, জরাজীর্ণ সড়ক এবং অতিরিক্ত গতিতে বা বেপরোয়াভাবে যানবাহন চালানোর কারণে এমন প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।
এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসেও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সিদামা অঞ্চলে যাত্রীবোঝাই একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ে গেলে ৬৬ জন নিরীহ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। বারবার পুনরাবৃত্ত হওয়া এসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনা দেশটির সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনের নজরদারির অভাবকে চরমভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।