শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তা শঙ্কায় আঙ্কারায় ক্যাটারিং কনটেইনারে ট্রাম্পের গোপন বিমান বদল এবং যুক্তরাজ্যে প্রস্থান !

RNS News

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

নিরাপত্তা শঙ্কায় আঙ্কারায় ক্যাটারিং কনটেইনারে ট্রাম্পের গোপন বিমান বদল এবং যুক্তরাজ্যে প্রস্থান !
ছবি : Collected

তুরস্ক সফরের শেষ মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র শঙ্কা ও নজিরবিহীন সতর্কতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আঙ্কারা ছেড়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে প্রাণনাশের সম্ভাব্য হুমকি এড়াতে তাকে একটি এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে গোপনীয়তার সঙ্গে একটি ক্যাটারিং কনটেইনারে করে সি-থার্টিটু-এ নামের একটি তুলনামূলক ছোট সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

অত্যন্ত গোপনে পরিচালিত এই নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাকে তুরস্ক থেকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় বলে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমস এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করার পর তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সামরিক জোট ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে কাতার থেকে প্রাপ্ত একটি নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজে চড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় পৌঁছান।

 

 

তবে সেখানে অবস্থানকালে ইরান সমর্থিত কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তার ওপর সম্ভাব্য প্রাণঘাতী হামলার বার্তা ও সুনির্দিষ্ট হুমকি আসে বলে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়। পরিস্থিতির চরম ভয়াবহতা বিবেচনা করে মার্কিন গোয়েন্দা ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত ফ্লাইট পরিকল্পনায় তাৎক্ষণিক ও অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। নিরাপত্তা দল অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও স্পর্শকাতরতার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের অবস্থান পরিবর্তন নিশ্চিত করে, যাতে কোনোভাবেই বিমানবন্দরের ভেতরে বা বাইরে থেকে সফরসূচির কোনো অস্বাভাবিকতা অনুধাবন করা না যায়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও চিত্র ও তথ্যানুসারে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে সাধারণ নিয়মে তার মূল এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন। তবে বিমানে ওঠার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় মূল উড়োজাহাজের কাছে একটি বিশেষ ক্যাটারিং ট্রাক ভেড়ানো হয়।

 

সেই ট্রাকের ভেতরের একটি সুরক্ষিত ক্যাটারিং কনটেইনারে করে গোপনে ট্রাম্পকে বিমান থেকে নামিয়ে কিছু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা সামরিক যান সি-থার্টিটু-এ বিমানে স্থানান্তর করা হয়। এই আকস্মিক ও গোপন স্থানান্তরের সময় নিরাপত্তার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখা হয়েছিল।

 

এমনকি বিমানে অবস্থানরত সাংবাদিক ও সফরসঙ্গীদের বিভ্রান্তি বা তথ্য ফাঁস এড়াতে বিমানের জানালার পর্দাগুলো সম্পূর্ণ নামিয়ে রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে বাইরের স্পর্শকাতর কোনো প্রক্রিয়া কারো নজরে না আসে।

পুরো নাটকীয় প্রক্রিয়ার পর দুটি উড়োজাহাজই নিরাপদে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং পৃথকভাবে সেখানে পৌঁছায়। যুক্তরাজ্যে অবতরণের পর ধারণকৃত কিছু ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় তার মূল এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে নেমে আসছেন।

 

 

তবে নিরাপত্তার কঠোর গোপনীয়তার কারণে তিনি ঠিক কোন স্থানে বা কীভাবে ছোট বিমানটি থেকে পুনরায় মূল বিশালাকার এয়ারফোর্স ওয়ানে ফিরে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

 

প্রেসিডেন্টের আন্তর্জাতিক সফরগুলোতে এই ধরনের নজিরবিহীন ও চরম নিরাপত্তা কৌশল প্রয়োগ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে যেমন ফুটিয়ে তুলেছে, তেমনই বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ঝুঁকির অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর চিত্রটিকে উন্মোচিত করেছে।

 

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়েও বিভিন্ন কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বেশ কিছু প্রশ্ন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। একাংশের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে যে, পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানের মতো বর্তমানে ব্যবহৃত কিছু নতুন বিমানে স্বয়ংক্রিয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাবিহীন বা অপর্যাপ্ত প্রযুক্তি থাকতে পারে।

 

তবে এসব সংশয় ও সমালোচনাকে দ্রুত খণ্ডন করেছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা স্টিভেন চ্যুন এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নতুন সংযোজিত এই এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানটি অত্যন্ত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সর্বোচ্চ মানের নিরাপত্তাবেষ্টনীতে সজ্জিত।

 

যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য হামলা বা হুমকি মোকাবিলা করতে এবং রাষ্ট্রপ্রধানসহ তাঁর সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উড়োজাহাজে উচ্চমানের সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য।

বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে ঘটা এই স্পর্শকাতর ঘটনাটি এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর শীর্ষ খবরের স্থান দখল করে নিয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন গোষ্ঠীর সম্ভাব্য তৎপরতা এবং দূরপাল্লার সফরের সময় রাষ্ট্রপ্রধানদের সুরক্ষায় তৈরি হওয়া বহুমুখী হুমকি কীভাবে আধুনিক কূটনীতি ও প্রশাসনিক নিরাপত্তানীতিকে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করছে, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। যেকোনো মূল্যে রাষ্ট্রপ্রধানের সুরক্ষা নিশ্চিত করার এই কৌশল আন্তর্জাতিক রাজনীতির কঠিন বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

 

- ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমস