শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই

‘ফ্যালকন স্ট্রাইক’ নামে নতুন বহুজাতিক ড্রোন টাস্কফোর্স গঠন যুক্তরাষ্ট্রের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

‘ফ্যালকন স্ট্রাইক’ নামে নতুন বহুজাতিক ড্রোন টাস্কফোর্স গঠন যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি : Collected

মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পটভূমিতে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা জোরদার করতে নতুন এক সামরিক ফ্রন্ট খোলার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

 

শুক্রবার কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ওয়াশিংটন প্রথমবারের মতো একটি বহুমুখী ও বহুজাতিক একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন টাস্কফোর্স গঠন করেছে।

 

সমরাস্ত্রের আধুনিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে গঠিত অত্যন্ত আধুনিক এই বিশেষ ইউনিটের নামকরণ করা হয়েছে ‘টাস্কফোর্স ফ্যালকন স্ট্রাইক’। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বরাতে জানা গেছে, ফ্যালকন স্ট্রাইক ইউনিটটি সমুদ্রপৃষ্ঠে, সমুদ্রের ওপরের আকাশসীমায় এবং সমুদ্রের তলদেশে একমুখী আক্রমণ চালাতে সক্ষম চালকবিহীন প্রযুক্তি ও ড্রোন মোতায়েন করবে।

 

সম্পূর্ণ নতুন এই সমন্বিত সামরিক উদ্যোগে শুধু মার্কিন সামরিক বাহিনী একা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন। আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখাই এই বহুজাতিক টাস্কফোর্সের প্রধান উদ্দেশ্য বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

 

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রথমবারের মতো বিশেষায়িত আক্রমণকারী ড্রোন স্কোয়াড্রন হিসেবে ‘স্করপিয়ন স্ট্রাইক টাস্কফোর্স’ গঠন করেছিল। সেই পূর্ববর্তী ইউনিট প্রতিষ্ঠার মাত্র নয় মাসের মাথায় আরও বিস্তৃত পরিসরে নতুন এই ‘ফ্যালকন স্ট্রাইক’ বাহিনী গঠন করার পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

 

সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, আঞ্চলিক মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যে ব্যাপক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ঘটছে, ফ্যালকন স্ট্রাইক মূলত স্করপিয়ন স্ট্রাইকের সেই ইতিবাচক সাফল্যকে আরও সুদূরপ্রসারী করবে।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগ সামরিক বাহিনীর নতুন সক্ষমতাগুলোকে একত্রিত করে মাঠপর্যায়ে মোতায়েনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে এবং বিভিন্ন প্রতিকূল প্রান্তে নতুন সামরিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করবে।

 

সামরিক এই প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও তেহরানের ওপর চরম চাপ সৃষ্টির কৌশল গ্রহণ করেছে ওয়াশিংটন। সামরিক বাহিনীতে নতুন ড্রোন টাস্কফোর্স ঘোষণার আগেই ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

 

দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে এমন কিছু সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে বিরল ও অভূতপূর্ব ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হবে।

 

মার্কিন গণমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক মহলকে আগামী সপ্তাহের সুনির্দিষ্ট ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে, কারণ কোনো দেশের ওপর অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কার্যকর করার ক্ষেত্রে এমন নজিরবিহীন উদ্যোগ এর আগে কখনো নেওয়া হয়নি।

 

তিনি আরও দাবি করেন, এটি হবে এমন এক বহুমুখী অর্থনৈতিক অবরোধের সমন্বয়, যা বিশ্ব এর আগে প্রত্যক্ষ করেনি। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকবে, যার ফলে ইরানের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলো দিয়ে যেকোনো পণ্য বা রসদ প্রবেশ ও বহির্গমন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। সার্বিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলসীমায় ড্রোন প্রযুক্তির নতুন সামরিক ফ্রন্ট খোলার এই মার্কিন পদক্ষেপ চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

 

- আল জাজিরা