শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্প ও মেলানিয়ার নতুন ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জল্পনা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

ট্রাম্প ও মেলানিয়ার নতুন ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জল্পনা
ছবি : Collected

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সাবেক ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে আবারও নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

 

সম্প্রতি ‘ফ্রিডম ২৫০ গ্র্যান্ড প্রিকস’ অনুষ্ঠানে ধারণ করা একটি ছোট ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এই নতুন জল্পনা-কল্পনার সূত্রপাত হয়। এই ভিডিওতে তাদের দুজনের মধ্যকার এক আপাত অস্বস্তিকর ও উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত ধরা পড়েছে, যা সাধারণ নেটিজেন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘটনাটিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই মেলানিয়া ট্রাম্পকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না এবং তাদের সম্পর্কের দূরত্ব নিয়ে নানা মহলে কানাঘুষা চলছিল।

 

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মেলানিয়া ট্রাম্প অনুষ্ঠানস্থলের অত্যন্ত সুরক্ষিত এক নম্বর ভিআইপি বক্সে পাশাপাশি বসে আছেন। চারপাশের কোলাহলের মাঝে একপর্যায়ে মেলানিয়া ট্রাম্প তার স্বামীর দিকে কিছুটা ঝুঁকে কিছু একটা বলার বা শোনার চেষ্টা করেন।

 

ঠিক সেই মুহূর্তেই ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে উদ্দেশ্য করে পাল্টা কিছু একটা বলেন। এরপরই মেলানিয়ার মুখাবয়বে হঠাৎ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তাকে অত্যন্ত গম্ভীর, বিরক্ত এবং দৃশ্যত আনমনা হয়ে যেতে দেখা যায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি কোনো কথা না বাড়িয়ে তার আসন ছেড়ে অন্য দিকে চলে যান।

 

ভিআইপি বক্সের এই আকস্মিক প্রস্থান ও তার শারীরিক ভাষাই মূলত বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যেহেতু দূর থেকে ধারণ করা এই ভিডিওটিতে কোনো স্পষ্ট শব্দ নেই, তাই তারা ঠিক কী নিয়ে কথা বলছিলেন বা বিতর্কে জড়িয়েছিলেন, তা শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

শব্দ না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা নিজেদের মতো করে ঘটনাটির নানামুখী বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। অনেকেই ঠোঁট নাড়ার ধরন বা ‘লিপ-রিডিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে ট্রাম্প দম্পতির এই অস্পষ্ট কথোপকথনটি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

 

এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে এক ব্যবহারকারী প্রকাশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে লিখেছেন যে, সেখানে এমন কোনো দক্ষ ব্যক্তি আছেন কি না, যিনি ট্রাম্প ও মেলানিয়ার মধ্যকার আসল কথাগুলোর পাঠোদ্ধার করতে পারবেন।

 

অন্যদিকে, অনেকেই তাদের শারীরিক হাবভাব ও অভিব্যক্তি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে মন্তব্য করেছেন যে, ট্রাম্প দম্পতির দাম্পত্য সম্পর্কের ভেতরে হয়তো দীর্ঘদিন ধরে কোনো বড় ধরনের টানাপোড়েন বা অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে, যা জনসমক্ষে প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে।

 

তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি নীরব ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের মধ্যে আসলেই কোনো তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো একেবারেই যৌক্তিক নয়।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান এই জল্পনা-কল্পনা কেবল ট্রাম্প দম্পতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। অনেকেই এই দূরত্বের পেছনের কারণ হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্টের অন্যতম ব্যক্তিগত সহকারী ন্যাটালি হার্পের নাম জড়িয়ে দিচ্ছেন।

 

ন্যাটালি হার্প বর্তমানে ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মহলে কাজ করেন এবং প্রায় সব জায়গাতেই তাকে ট্রাম্পের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। রাজনৈতিক প্রচারণার বিভিন্ন কাজে তিনি ট্রাম্পকে প্রতিনিয়ত সহায়তা করে থাকেন।

 

নেটিজেনদের একাংশের জোরালো দাবি, ন্যাটালি হার্পের উপস্থিতির কারণেই হয়তো মেলানিয়া ট্রাম্প কিছুটা বিরক্ত বা অস্বস্তিতে ছিলেন। একজন ব্যবহারকারী এক্সে মন্তব্য করেছেন যে, ভিআইপি বক্সে ন্যাটালি হার্পকে দেখতে পাওয়ার পরপরই মেলানিয়া ট্রাম্প সেখান থেকে উঠে চলে যান।

 

তবে এই চাঞ্চল্যকর দাবিগুলোর সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো জোরালো বা বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লেখা ন্যাটালি হার্পের একটি আবেগময় ব্যক্তিগত চিঠি এবং তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ মেলামেশা নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ বিতর্ক ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল।

 

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আসন্ন রাজনৈতিক প্রচারণা ও আইনি লড়াই নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে তার পাশে মেলানিয়া ট্রাম্পকে খুব একটা দেখা যায়নি। স্বামীর বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশ, বক্তৃতা এবং গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সাবেক ফার্স্ট লেডির এই ধারাবাহিক অনুপস্থিতি মার্কিন গণমাধ্যমেও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

 

দীর্ঘদিন জনসমক্ষে না আসার পর গ্র্যান্ড প্রিকসের মতো একটি জমকালো স্পোর্টস ইভেন্টে তার এই উপস্থিতি ভক্তদের মাঝে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছিল। কিন্তু সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়া এই বিতর্কিত ভিডিওটি পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবনের এই অমীমাংসিত সমীকরণগুলো আগামী দিনগুলোতে গণমাধ্যমে আরও নিবিড়ভাবে পর্যালোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

- এনডিটিভি