শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের সুবিধার্থে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক অজুখানা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের সুবিধার্থে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক অজুখানা
ছবি : Collected

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান আকাশপথ কেন্দ্র টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী মুসলিম যাত্রীদের ধর্মীয় অনুশাসন পালন ও সুবিধার কথা বিবেচনা করে শৌচাগারের পাশে বিশেষ অজুর স্থান তৈরির এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

 

চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই বিশেষ নির্মাণকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

 

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও সংস্কৃতির ভ্রমণকারীদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়াস হিসেবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩১ জুলাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের অনুমোদনের মাধ্যমে প্রকল্পটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়।

 

অত্যন্ত সময়োপযোগী এই প্রকল্পের মোট বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় তিন লাখ মার্কিন ডলার। পুরো প্রকল্পটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অনুদান ও অর্থায়নের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা বিমানবন্দরের নিয়মিত সরকারি তহবিলের ওপর কোনো বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে না।

 

নতুন এই প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনাল হিসেবে পরিচিত ‘টার্মিনাল ডি’-এর বিদ্যমান প্রধান শৌচাগারগুলোর সংস্কার করে পুরুষ ও নারী উভয় শ্রেণির যাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক দুটি অজুর জায়গা তৈরি করা হবে। এর ফলে ব্যস্ত সময়েও নারী ও পুরুষ যাত্রীরা নিজস্ব শালীনতা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে অনায়াসে অজু সম্পন্ন করতে পারবেন।

 

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রকল্পের নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এই বিশেষ অবকাঠামো গড়ে তোলার পেছনে গভীর বাস্তবসম্মত, স্বাস্থ্যগত এবং সুরক্ষামূলক কারণ রয়েছে। সাধারণ শৌচাগারে কেবল হাত-মুখ ধোয়ার জন্য নির্ধারিত বেসিনগুলোর উচ্চতা বেশি হওয়ায় সেখানে পা ধোয়ার চেষ্টা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও শারীরিকভাবে অস্বস্তিকর।

 

এতে করে অনেক সময় সংবেদনশীল সিরামিক বেসিনের ওপর অতিরিক্ত শারীরিক চাপ পড়ে তা ভেঙে যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে মেঝেময় পানি উপচে পড়ে পিচ্ছিল ও স্যাঁতসেঁতে এক অনিরাপদ পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যা প্রবীণ ও অন্যান্য সাধারণ যাত্রীদের চলাচলের ক্ষেত্রে পিছলে পড়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে।

 

যাত্রীদের এই বাস্তব সমস্যা নিরসন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শৌচাগারের সার্বিক স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতেই মেঝে সংলগ্ন সুবিধাজনক উচ্চতার আধুনিক অজু স্টেশন বা বিশেষ ফুট-ওয়াশ বেসিন বসানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

 

যাত্রীদের ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনার সুবিধার কথা চিন্তা করে এ ধরনের আধুনিক অজুখানার ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একেবারে নতুন কোনো ধারণা নয়। দেশটির আরও কয়েকটি বড় ও ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বহু আগে থেকেই মুসলিম যাত্রীদের সুবিধার্থে এমন প্রশংসনীয় ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সকল ধর্মবিশ্বাসের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এ ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে সমাদৃত হচ্ছে। এমনকি ডালাস-ফোর্ট ওর্থ বিমানবন্দরের ক্ষেত্রেও অজুর এই ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়।

 

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অতীত তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০১৯ সালে এই একই টার্মিনাল ডি-এর গেট ডি৪০-এর নিকটে যখন একটি সর্বধর্ম প্রার্থনালয় আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছিল, তখন সেখানে প্রাথমিক পরিসরে দুটি অজু স্টেশন স্থাপন করা হয়েছিল।

 

বর্তমান প্রকল্পটি মূলত সেই পূর্ববর্তী সফল ব্যবস্থারই এক বৃহৎ পরিসরের কার্যকর সম্প্রসারণ, যা বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ ভ্রমণকারীর কাছে বিমানবন্দরটির মানবিক ও আধুনিক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করে তুলবে।

 

- ফক্স নিউজ