বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের পিকঅ্যাক্স পাহাড়ে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্পের কড়া বার্তা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

ইরানের পিকঅ্যাক্স পাহাড়ে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্পের কড়া বার্তা
ছবি : Collected

মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত ও ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এবার বড় ধরনের সামরিক অভিযানের সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা বা উসকানি দেখা গেলে ওয়াশিংটন সেখানে অত্যন্ত কঠোর ও বিধ্বংসী আঘাত হানতে বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে দেশটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে সন্দেহজনক তৎপরতা নজরে আসার পরই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই কড়া বার্তা এলো।

 

বুধবার টেক্সাসের ডালাস শহরে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনী এক সমাবেশে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।

 

নির্বাচনী সেই রাজনৈতিক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সতর্ক করে বলেন, তাদের নজরদারিতে পিকঅ্যাক্স পার্বত্য অঞ্চলে সামান্য কিছু অস্বাভাবিক সামরিক তৎপরতা ধরা পড়েছে।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানকে কোনো ধরনের সীমা লঙ্ঘন বা বাড়াবাড়ি না করার বিষয়ে তিনি সরাসরি পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ যদি তেহরান দায়িত্বহীন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে তাদের ওপর অত্যন্ত কঠোরভাবে সামরিক আঘাত হানতে বাধ্য হবে ওয়াশিংটন।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সম্ভাব্য সংঘাতের শঙ্কাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে পিকঅ্যাক্স পার্বত্য এলাকাটি ইরানের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি স্থান।

 

দেশটির অন্যতম প্রধান ও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের ঠিক নিকটেই এই পর্বতমালাটি অবস্থিত। পাহাড়ের কঠিন পাথুরে আবরণের নিচে মাটির অনেক গভীরে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত দুটি বিশাল সুড়ঙ্গ অবকাঠামো গড়ে তুলেছে তেহরান।

 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আকাশপথে হওয়া সম্ভাব্য যেকোনো বিধ্বংসী বোমা হামলা কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ থেকে নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা রক্ষা করতেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে এই ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল।

 

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই মূলত ট্রাম্প এই সুরক্ষিত এলাকায় সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বিমান হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন।

 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক সংঘাতের মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।

 

সামনে ঘনিয়ে আসা নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জ্বালানির এই ঊর্ধ্বগতি স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তীব্র উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এবং ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের জন্য বৈশ্বিক এই সংকট ক্রমেই একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

 

অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে দাঁড়িয়েও মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে ওয়াশিংটন কোনো প্রকার ছাড় দিতে নারাজ। ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক অবকাঠামোতে এর আগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা ও নজরদারি সংস্থাগুলো দেশটির সামগ্রিক পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।

 

তেহরানের মাটির নিচের গোপন তৎপরতা, সেনাসমাবেশ কিংবা নতুন করে অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের প্রতিটি গতিবিধির ওপর আধুনিক কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে তীক্ষ্ণ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

 

এমন একটি স্পর্শকাতর ও সংকটজনক সন্ধিক্ষণেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক হুমকি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনার বদলে নতুন করে বড় মাত্রার কোনো যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় কি না, তা নিয়ে এখন গোটা বিশ্ব শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

 

- জিও নিউজ