শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোট না দিলে সমর্থকদের ‘নরকে যেতে হবে’, ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম

ভোট না দিলে সমর্থকদের ‘নরকে যেতে হবে’, ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
ছবি : Collected

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী নভেম্বরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান সমর্থকদের শতভাগ ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি এই চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

 

বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি সমর্থকদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করেন এবং সতর্ক করে বলেন যে, নাগরিক দায়িত্ব অবহেলা করে যদি কেউ ভোট প্রদান না করেন, তবে তাদের পরিণতি হবে নরকবাসের শামিল।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই রাজনৈতিক সমাবেশের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সম্মেলনে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেন।

 

তিনি উপস্থিত জনতাকে সমস্বরে শপথ করান যেন তারা প্রত্যেকে আগামী নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং নিজ নিজ পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

 

বক্তব্যের একপর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সরাসরি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, ভোটাররা যদি নিজেদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ না করেন তবে কী ধরনের পরিস্থিতি নেমে আসবে তা কি তারা উপলব্ধি করতে পারছেন?

 

তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, আপনারা ভোট না দিলে আপনাদের অনিবার্যভাবে নরকে যেতে হবে। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে দলীয় কর্মীদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগের তাগিদ দেন এবং ডেমোক্র্যাট শিবিরের বিরুদ্ধে আবারও ব্যাপক ভোট কারচুপি ও অনিয়মের পুরোনো অভিযোগ উত্থাপন করেন।

 

ভাষণ চলাকালে নিজের মেয়াদের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেন যে, তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন মাত্র উনিশ মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রকে এক ঘোর অন্ধকার যুগ থেকে টেনে তুলে সোনালি যুগে প্রবেশ করিয়েছে।

 

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে দেশের শেয়ারবাজারে অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে, সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে এবং প্রতিরক্ষা খাতে জাতীয় বাজেট বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

প্রেসিডেন্টের মতে, এই সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপগুলোর ফলেই আজ আমেরিকা বৈশ্বিক মঞ্চে এক অপ্রতিরোধ্য জ্বালানি ও সামরিক পরাশক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, গত উনিশ মাসে তিনি নির্বাচনের পূর্বে মার্কিন জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন।

 

পাশাপাশি তিনি অবৈধ সীমান্ত অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে প্রতিহত করা এবং অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার আয়, সেবামূলক কাজের বকশিশ ও সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার ওপর থেকে করের বোঝা লাঘব করার লক্ষ্যে গৃহীত আইনি পদক্ষেপের সাফল্যও তুলে ধরেন।

 

বিরোধীদের সমালোচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আসন্ন নির্বাচনে ক্ষমতার ভারসাম্যের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে এক কঠোর বার্তা দেন। তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, যদি ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে কোনোভাবে বিজয়ী হয়, তবে তার পরিণতি দেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য বিপর্যয় বয়ে আনবে।

 

ট্রাম্পের দাবি, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় আধিপত্য বিস্তার করলে নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে, টেক্সাসের অর্থনীতির প্রাণ হিসেবে পরিচিত তেল ও গ্যাস শিল্প পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়বে এবং বিচারব্যবস্থার শিথিলতার কারণে চিহ্নিত অপরাধীরা আবারও রাজপথে নেমে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে।

 

এমন সম্ভাব্য সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য তিনি রিপাবলিকান ভোটারদের যে কোনো মূল্যে ব্যালট বাক্সে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের আগে একই মঞ্চে সম্মেলনের সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

 

তিনি মূলত মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ-প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার স্বার্থে দলীয় অনুসারীদের সক্রিয় রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামার জোর আহ্বান জানান।

 

সমর্থকদের উদ্দেশে ভ্যান্স বলেন, প্রশাসনের কোনো একটি নির্দিষ্ট নীতি বা মতাদর্শিক সিদ্ধান্তে সাময়িক মতপার্থক্য তৈরি হলেও সেই ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে দেশের দায়িত্ব একদল উন্মাদের হাতে কোনোভাবেই তুলে দেওয়া যাবে না।

 

তিনি উপস্থিত জনতাকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান আমেরিকা হলো পূর্বপুরুষদের ত্যাগ ও অবদানের বিনিময়ে অর্জিত এক ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার, যার সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল টেক্সাসের ডালাসে আয়োজিত এই বিশাল দলীয় সমাবেশকে কেবল আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণা হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, এটি মূলত একটি দ্বিমুখী কৌশলগত পদক্ষেপ।

 

একদিকে এই সমাবেশ রিপাবলিকান ভোটারদের তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ করে ভোটকেন্দ্রে আনার পথ তৈরি করছে, অন্যদিকে এটি ২০২৮ সালের পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে রিপাবলিকান দলের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি সুপরিকল্পিত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

 

- আনাদোলু এজেন্সি