রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রিও সম্মেলনে মেয়রদের সমন্বিত পদক্ষেপের অঙ্গীকার

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর, ২০২৫, ০১:০০ পিএম

রিও সম্মেলনে মেয়রদের সমন্বিত পদক্ষেপের অঙ্গীকার
ছবি: AP

ব্রাজিলে আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের (কপ৩০) ঠিক আগ মুহূর্তে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০০ জন মেয়র সমন্বিত জলবায়ু পদক্ষেপ গ্রহণের দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন। সোমবার (৩ নভেম্বর) রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলনে তারা এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। বিশেষত, শহরগুলোতে ক্রমবর্ধমান তীব্র তাপপ্রবাহ, যা সাধারণ নাগরিকদের জীবনকে বিপর্যস্ত করছে, তা মোকাবিলায় তারা একজোট হয়েছেন।

 

এই সম্মেলনটির আয়োজন করে 'সি৪০' (C40), যা বিশ্বের বড় শহরগুলোর মেয়রদের একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্ক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং এর প্রভাবগুলির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে শহরগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।

 

সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে, জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা এবং সহকারী মহাসচিব সেলউইন হার্ট বলেন, জলবায়ু সংকটের একেবারে সম্মুখসারিতে (ফ্রন্ট লাইনে) রয়েছেন মেয়ররা। তিনি বলেন, "বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিভাজনের মধ্যে, আপনাদের শহরগুলোতে যা ঘটছে তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।" তিনি আরও যোগ করেন, বিশ্ব যখন ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের দ্বিতীয় দশকে প্রবেশ করছে, তখন স্থানীয় নেতাদের "আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন"।

 

ব্রাজিলের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধান এবং কপ৩০-এর প্রধান নির্বাহী আনা তোনি বলেন, মেয়রদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব। "কারণ আপনারাই সেই মেয়র, যাদের প্রতিদিন জনগণের সাথে মিলেমিশে অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্তগুলো নিতে হয়," তিনি যোগ করেন।

 

মেয়রদের এই সম্মেলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্যারিস চুক্তি থেকে সরে আসা এবং জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি বড় হয়ে ওঠে। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এই প্রসঙ্গে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "মেয়ররা দীর্ঘকাল ধরেই জলবায়ু কর্মী, যখন অনেক দেশ জলবায়ু বিলম্বকারী বা এমনকি জলবায়ু অস্বীকারকারী হিসেবে কাজ করেছে।" তিনি আরও বলেন, "এখন এটি জলবায়ু অস্বীকারের লড়াই নয়, বরং জলবায়ু ধ্বংসকারী এবং জলবায়ু রক্ষকদের মধ্যে একটি অস্তিত্বের লড়াই।"

 

সাদিক খান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, "ধ্বংসকারীদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও রয়েছেন, যিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে জলবায়ু সংকটকে একটি 'কেলেঙ্কারি' (স্ক্যাম) বলে অভিহিত করেছেন।"

 

তবে, অ্যারিজোনার ফিনিক্স শহরের মেয়র কেট গ্যালেগো ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমাদের জাতীয় সরকার যখন পিছিয়ে যাচ্ছে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি শহর এখানে রয়েছে, যারা উচ্চাভিলাষী জলবায়ু পদক্ষেপের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" তিনি জানান, তার শহরে এ বছর দুবার তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করেছে।

 

এই ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় 'সি৪০' মেয়ররা সোমবার 'কুল সিটিস এক্সিলারেটর' নামে একটি বৈশ্বিক জোট চালু করেছে। এই জোটে ফিনিক্স, লন্ডন, প্যারিস, নাইরোবি ও বুয়েনস আইরেসসহ ৩৩টি শহর অংশ নিয়েছে। তারা শীতলীকরণ প্রকল্প, শহুরে বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি এবং জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে একযোগে কাজ করবে। সি৪০ গোষ্ঠীর মতে, শহরগুলো জাতীয় সরকারগুলোর তুলনায় দ্রুত গতিতে কার্বন নির্গমন হ্রাস করছে এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত শহরগুলো বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় পাঁচগুণ দ্রুত নির্গমন কমিয়েছে।

 

- Euro News