বিরোধীদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি বারবার ভুল তথ্য উপস্থাপন করে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। প্রেসিডেন্ট পেট্রোর এই 'অপতথ্য' প্রচারের প্রবণতা এতটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, একাধিকবার তাকে আদালতের নির্দেশে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, তিনি নুয়েভা ইপিএস-এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এনরিকে ভার্গাস লেরাসের বিরুদ্ধে বিলিয়ন ডলারের তহবিল তছরুপের অভিযোগ আনেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় আদালতের নির্দেশে প্রমাণিত হয় যে তার এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। একইভাবে, কেরাল্টি নামক একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মালিককে 'অপরাধী' হিসেবে আখ্যায়িত করার পর, আদালতের রায়ে তিনি সেই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।
এমনকি একজন সমাজকর্মীকে 'নাৎসি' সম্ভাষণ করে তিনি আইনি জটিলতায় পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। প্রেসিডেন্টের বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রচার কেবল ব্যক্তি আক্রমণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও পরিসংখ্যানগত তথ্যের ক্ষেত্রেও ছড়িয়েছে। তিনি একবার অ্যান্টিওকিয়া অঞ্চলের হাসপাতালের করুণ দশা বোঝাতে জরাজীর্ণ হাসপাতালের ছবি প্রকাশ করেন।
কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, সেই ছবিগুলো কলম্বিয়ার নয়, বরং প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলার হাসপাতালের। এই ঘটনায় তাকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় এবং পোস্টটি মুছে ফেলতে হয়। এছাড়াও, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে কেনা অ্যাম্বুলেন্স নিজের সরকারের সাফল্য হিসেবে প্রচার করা এবং চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ধনী তোষণের অভিযোগ আনার বিষয়টিও তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।
দেশটির মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনগুলো চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগকে 'stigmatization' বা কলঙ্কলেপন হিসেবে অভিহিত করেছে। পরিসংখ্যান বিকৃতির অভিযোগও প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে প্রবল। তিনি দাবি করেছিলেন যে তার সরকার শিশু অপুষ্টিজনিত মৃত্যুহার অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে, যা জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
তাছাড়া, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের বিষয়ে তিনি যে গ্রাফ বা চিত্র উপস্থাপন করেছিলেন, তাতে মুদ্রাস্ফীতি ও স্বাভাবিক বাজেট বৃদ্ধির বিষয়টিকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। সর্বশেষ অডিফার্মা নামক একটি ওষুধ কোম্পানির মালিকানায় সাবেক প্রেসিডেন্টের আত্মীয়র সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তিনি যে দাবি করেছেন, তাও সরকারি নথিপত্রে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে আসীন ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূতই নয়, বরং তা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে অহেতুক ভীতি ও আস্থার সংকট তৈরি করছে। রাষ্ট্রপতির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী থাকায় এই ভুল তথ্যগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং জনমানসে একটি ভুল ধারণার বুদবুদ তৈরি করছে, যা গণতন্ত্র ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য হুমকিস্বরূপ।