সম্প্রতি ফাঁস হওয়া কিছু গোপন নথিতে বিদ্রোহী নেতা কালারকার সাথে মেজিয়ার যোগাযোগের বিষয়টি উঠে আসার পর তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, যা সন্দেহের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। উইলমার মেজিয়া সম্প্রতি ডব্লিউ এবং ব্লু রেডিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, সরকারি পদে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই তিনি পেত্রো সরকারের জন্য একজন বেসামরিক সোর্স বা ‘তথ্যদাতা’ হিসেবে কাজ করতেন।
তাঁর মতে, গোয়েন্দা প্রধান হওয়ার জন্য বিশেষ কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই, বরং মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতাই মুখ্য। তিনি দাবি করেন, ২০০২ সালে ছাত্রনেতা থাকাকালীন বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সাথে তাঁর পরিচয় হয় এবং সেই রাজনৈতিক সখ্যতাই তাঁকে এই উচ্চপদে আসীন করতে সহায়তা করেছে।
তিনি আরও স্বীকার করেন যে, তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইভান ভিলাসকুয়েজের কাছে সরাসরি গোপন প্রতিবেদন জমা দিতেন, যার ভিত্তিতে সামরিক বাহিনীর অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত বা ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালানো হয়েছিল। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিদ্রোহী ফার্ক ডিসিডেন্ট বা ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠীর নেতা, যার ছদ্মনাম 'কালারকা'।
উদ্ধারকৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইসের নথিপত্রে মেজিয়া এবং জেনারেল মিগুয়েল হুয়ের্তাসের সাথে এই বিদ্রোহী নেতার যোগাযোগের প্রমাণ মেলার দাবি করা হয়েছে। যদিও মেজিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে একটি বড় যড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, সরকার এবং প্রেসিডেন্টের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই একটি পরিকল্পিত মিথ্যাচার চালানো হচ্ছে।
তবে জেনারেল হুয়ের্তাসের সাথে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব এবং জেনারেলের সাম্প্রতিক ভেনেজুয়েলা সফরের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন, যা এই রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে। একজন সাধারণ নাগরিক থেকে কোনো প্রকার বাছাই প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ বা কারিগরি জ্ঞান ছাড়াই কীভাবে সরাসরি মন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের কাছে স্পর্শকাতর তথ্য পাচার করতেন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা পদের দায়িত্ব পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
মেজিয়ার এই উল্কাগতির উত্থান এবং বিদ্রোহী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ কলম্বিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। নিজের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে মেজিয়া প্রকারান্তরে নিজের অযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদ বাগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিই জনসমক্ষে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।