রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিমানে মার্জিত পোশাক পরার আহ্বান মার্কিন পরিবহনমন্ত্রীর

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ০১:৩৭ পিএম

বিমানে মার্জিত পোশাক পরার আহ্বান মার্কিন পরিবহনমন্ত্রীর
ছবি: AP

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন সচিব শন ডাফি সম্প্রতি বিমান যাত্রীদের পোশাকে পরিবর্তন আনার এবং আচরণে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। থ্যাঙ্কসগিভিং ছুটির প্রাক্কালে প্রকাশিত এক প্রচারণায় তিনি যাত্রীদের পায়জামা বা চটি না পরে আরও মার্জিত পোশাক পরার পরামর্শ দেন।

 

তার এই ‘গোল্ডেন এজ অব ট্রাভেল’ বা ভ্রমণের স্বর্ণযুগ ফিরিয়ে আনার প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সমালোচকরা বলছেন, বর্তমান বিমান ভ্রমণ ব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যাগুলো আড়াল করতেই এমন অদ্ভুত আবদার করা হচ্ছে। পরিবহন বিভাগের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকের সুশৃঙ্খল বিমানবন্দর এবং বর্তমানের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির তুলনা করা হয়েছে।

 

ভিডিওটিতে সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রীদের মারামারি এবং কেবিন ক্রুদের সাথে তর্কের দৃশ্য তুলে ধরা হয়। ডাফি প্রশ্ন রেখেছেন, যাত্রীরা কি সম্মানের সাথে পোশাক পরছেন? নিউয়ার্ক বিমানবন্দরে তিনি মন্তব্য করেন, যাত্রীদের উচিত বিমানবন্দরে আসার সময় ঘরের পোশাক এড়িয়ে চলা। তবে সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, বর্তমান বিমান ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আগের মতো নেই।

 

এখন যাত্রীদের গবাদিপশুর মতো গাদাগাদি করে বসানো হয় এবং টিকিটের দাম, ফ্লাইটে বিলম্ব ও নিরাপত্তার কড়াকড়ি ভ্রমণকে অসহনীয় করে তুলেছে। যাত্রীদের মতে, যতক্ষণ বিমানে ঘুমানোর জন্য মেঝেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, ততক্ষণ পোশাক নিয়ে ভাবার সুযোগ নেই। যদিও পরিবহন বিভাগ বলছে, বিমানে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা কমানোই তাদের লক্ষ্য, তবুও ইতিহাসবিদরা ভিন্ন কথা বলছেন। ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৩,৮০০টি উশৃঙ্খল আচরণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

 

তবে তথাকথিত সেই ‘স্বর্ণযুগে’ বিমানে ধূমপান বৈধ ছিল, ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটত এবং বিমান দুর্ঘটনার হারও ছিল বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি। তাই অতীতের সেই সময়কে যতটা জৌলুসপূর্ণ মনে করা হচ্ছে, বাস্তবতা ততটা মসৃণ ছিল না। মজার বিষয় হলো, ডাফির এই আনুষ্ঠানিক পোশাকের আহ্বানের ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে খোদ বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে। বিশ্বের অনেক বড় এয়ারলাইন্স এখন তাদের কর্মীদের পোশাক ও সাজসজ্জার নিয়ম শিথিল করছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা এয়ারলাইন্স বা ভার্জিন আটলান্টিকের মতো সংস্থাগুলো কর্মীদের উল্কি প্রদর্শন বা লিঙ্গ-নিরপেক্ষ পোশাক পরার অনুমতি দিয়েছে। এমনকি মালদ্বীপের ট্রান্স মালদিভিয়ান এয়ারওয়েজের পাইলটরা অনেক সময় খালি পায়ে বা সাধারণ স্যান্ডেল পরে বিমান চালান। শিষ্টাচার বজায় রাখার বিষয়টি অনেকেই সমর্থন করেছেন।

 

তবে সমালোচকদের মূল কথা হলো, বিমানে যাত্রীদের অসহিষ্ণু আচরণের প্রধান কারণ তাদের পোশাক নয়; বরং অতিরিক্ত ভিড়, জনবল সংকট এবং আকাশছোঁয়া খরচ। যতক্ষণ পর্যন্ত বিমান ভ্রমণের কাঠামোগত সমস্যার সমাধান না হচ্ছে এবং রেল যোগাযোগের মতো বিকল্প ব্যবস্থা উন্নত না করা হচ্ছে, ততক্ষণ কেবল পোশাক পরিবর্তন করে পরিস্থিতির উন্নতি আশা করা অবাস্তব। মূলত যাত্রীদের জিন্স বা পায়জামা নয়, বরং ভ্রমণের মানসিক চাপই বিমানে বিশৃঙ্খলার মূল ইন্ধন।

 

- Euro News