ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যার কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার দীর্ঘদিনের বৈরিতা। ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শনিবার, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক বার্তায় ভেনিজুয়েলার আকাশসীমাকে "সম্পূর্ণরূপে বন্ধ" হিসেবে বিবেচনা করার হুঁশিয়ারি দেন।
বিমান সংস্থা, পাইলট এবং পাচারকারীদের উদ্দেশ্য করে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি নিরাপত্তার অজুহাতে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। নিকোলাস মাদুরোর বামপন্থী সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চলমান উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। কারাকাস অবিলম্বে এই বক্তব্যকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর "ঔপনিবেশিক হুমকি" হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রো সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে এই পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। লাতিন আমেরিকান ও ক্যারিবিয়ান রাষ্ট্রগুলোর কমিউনিটি বা 'সিইএলএসি' (CELAC)-এর বর্তমান সভাপতি হিসেবে তিনি বলেন, "আমি জানতে চাই, আন্তর্জাতিক আইনের কোন বিধানে এক দেশের প্রেসিডেন্ট অন্য দেশের আকাশসীমা বন্ধ করতে পারেন?"
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এমনটা মেনে নেওয়া হয়, তবে জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে। পেত্রো আরও উল্লেখ করেন, যদি কোনো বিদেশি শক্তির এমন ক্ষমতা থাকে, তবে বুঝতে হবে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO) তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই হুঁশিয়ারির জেরে ভেনিজুয়েলার বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
গত সপ্তাহে মার্কিন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ভেনিজুয়েলার আকাশসীমায় নিরাপত্তার অবনতি ও সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে সতর্কতা জারি করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ আমেরিকার আকাশপথে আধিপত্য বিস্তারকারী ছয়টি প্রধান এয়ারলাইন্স ভেনিজুয়েলায় তাদের ফ্লাইট স্থগিত করে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ভেনিজুয়েলার কর্তৃপক্ষ স্পেনের আইবেরিয়া, পর্তুগালের টিএপি, কলম্বিয়ার এভিয়ানকা, ল্যাটাম এবং তুরস্কের টার্কিশ এয়ারলাইন্সের মতো সংস্থাগুলোর অপারেটিং পারমিট বাতিল করেছে।
পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে ভেনিজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। চলতি বছর প্রায় ৭৫টি ফ্লাইটে অন্তত ১৩,৯৫৬ জন ভেনিজুয়েলানকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, যা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
অন্যদিকে, ভেনিজুয়েলার সেনাবাহিনী যেকোনো "শত্রুভাবাপন্ন পদক্ষেপ" মোকাবেলায় উপকূলীয় এলাকায় মহড়া শুরু করেছে, যেখানে রকেট লঞ্চার ও বিমান বিধ্বংসী ব্যাটারির মতো ভারী অস্ত্রের প্রদর্শনী দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পেত্রোর এই আইনি প্রশ্ন এবং মাদুরোর সামরিক প্রস্তুতি-উভয়ই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আকাশসীমা নিয়ে এই দ্বন্দ্ব কেবল কথার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না।