রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর আমেরিকার লোলুপ দৃষ্টি ও সরাসরি আগ্রাসনের অভিযোগ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম

ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর আমেরিকার লোলুপ দৃষ্টি ও সরাসরি আগ্রাসনের অভিযোগ
ছবি: AP

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আমেরিকার বিরুদ্ধে দেশটির তেল সম্পদ দখলের প্রচেষ্টার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। কারাকাসের অভিযোগ, ওয়াশিংটন সরাসরি আগ্রাসনের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, যা শেষ পর্যন্ত বিশ্ববাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা বা ওপেক প্লাসের (OPEC+) কাছে আনুষ্ঠানিক সহায়তা চেয়েছে ভেনেজুয়েলা। রবিবার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ওপেক প্লাসকে একটি চিঠি পাঠিয়ে আমেরিকার এই আগ্রাসন মোকাবেলায় সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বার্তায় জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ওপেক মহাসচিব হাইথাম আল গাইস এবং সদস্য দেশগুলোর কাছে এই চিঠি পাঠিয়েছেন।

 

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্যারিবীয় অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ভেনেজুয়েলা সরকারের মতে, আমেরিকার এই কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য হলো দেশটির সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং তাদের তেল রপ্তানি সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই উত্তেজনা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা শুধুমাত্র ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদনকেই ব্যাহত করবে না, বরং বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

 

মাদুরো দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, ভেনেজুয়েলা তাদের প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ রক্ষায় সর্বদা অনড় থাকবে। এই কূটনৈতিক আবেদনটি এমন এক সময়ে করা হয়েছে যখন ক্যারিবীয় অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে আমেরিকার বিশাল সামরিক উপস্থিতি এবং জাহাজে বোমা হামলার ঘটনার মধ্যেই ওপেক প্লাসের মন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

 

চিঠিতে ভেনেজুয়েলা তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর কাছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের অনুরোধ জানিয়েছে। এর ঠিক আগেই আমেরিকা ভেনেজুয়েলা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশসীমা বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো তাদের ফ্লাইট স্থগিত করতে এবং বাণিজ্যিক রুট বাতিল করতে বাধ্য হয়, যার ফলে হাজার হাজার যাত্রী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।

 

পরিস্থিতি মোকাবেলায় কারাকাস তাৎক্ষণিকভাবে একটি জরুরি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যাতে বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়। ভেনেজুয়েলা সরকার আমেরিকার এই পদক্ষেপকে একটি "অঘোষিত অবরোধ" হিসেবে অভিহিত করেছে। লাতিন আমেরিকার ভূ-রাজনীতিতেও এই ঘটনার গভীর প্রভাব পড়েছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোসহ লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধান এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

তাঁরা পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপের দিকে না যায়, সেজন্য অবিলম্বে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই উত্তেজনা অব্যাহত থাকে, তবে ভেনেজুয়েলা একটি ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি হতে পারে এবং বিশ্ব তেলের বাজার আবারও বড় ধরনের অস্থিরতার কবলে পড়তে পারে।

 

- Euro News