প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আগত পণ্যের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। একই সাথে তিনি আরও বেশ কিছু দেশের নেতাদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ১ আগস্ট থেকে শুল্ক কার্যকর হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। এর আগে ৯ জুলাই থেকে উচ্চ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, যা হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা বাণিজ্য চুক্তি করার আশায় স্থগিত করেছিলেন।
সোমবার ট্রাম্প ১৪টি দেশের নেতাদের উদ্দেশে লেখা চিঠিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে, এই শুল্কের হার "আপনাদের দেশের সাথে আমাদের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে বাড়ানো বা কমানো যেতে পারে।" এপ্রিল মাসে "লিবারেশন ডে" ঘোষণার সময় ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে হুমকি দিয়েছিলেন, এবারের বেশিরভাগ শুল্কের হার প্রায় একই রকম।
প্রেসিডেন্টের যুক্তি হলো, শুল্ক আরোপ আমেরিকান ব্যবসাগুলোকে বিদেশী প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করবে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পদক্ষেপগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যের দাম বাড়াবে এবং বাণিজ্য কমিয়ে দেবে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান শেয়ার সূচক কমে গেছে, যেখানে টয়োটার মার্কিন তালিকাভুক্ত শেয়ার ৪% কমেছে।
গত বছর জাপান যুক্তরাষ্ট্রে ১৪৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), মেক্সিকো, চীন এবং কানাডার পর আমেরিকার পঞ্চম বৃহত্তম আমদানিকারক। দক্ষিণ কোরিয়াও শীর্ষ ১০-এর মধ্যে ছিল।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়াও, ট্রাম্প মিয়ানমার ও লাওসের পণ্যের ওপর ৪০%, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া থেকে আগত পণ্যে ৩৬%, সার্বিয়া ও বাংলাদেশের পণ্যে ৩৫%, ইন্দোনেশিয়ায় ৩২%, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩০% এবং মালয়েশিয়া ও তিউনিসিয়ার পণ্যে ২৫% শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে আরও চিঠি আসতে পারে। তিনি এই ধারণাটি অস্বীকার করেছেন যে, শুল্কের সময়সীমা ৯ জুলাই থেকে ১ আগস্টে স্থানান্তরিত হওয়ায় ট্রাম্পের হুমকির প্রভাব কমবে। তিনি বলেন, "আমি আপনাকে বলতে পারি, প্রেসিডেন্টের ফোন সারাক্ষণ বিশ্ব নেতাদের ফোন রিসিভ করে, যারা একটি চুক্তিতে আসার জন্য তাকে অনুনয় করছেন।"
এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট যখন প্রথমবার উচ্চ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছিলেন, তখন আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়, যার ফলে তিনি আলোচনার জন্য কিছু উচ্চ শুল্ক স্থগিত করেন, তবে ১০% শুল্ক বহাল রাখেন।
ট্রাম্পের এই নতুন বাণিজ্য নীতিগুলো বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।