গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ফর্ম প্রদর্শন করে সি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেওয়া সেলেসাওরা এখন স্বপ্ন দেখছে বিশ্বজয়ের। অন্যদিকে, এফ গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করা ব্লু সামুরাই খ্যাত জাপানও নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণে মরিয়া।
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটির আগে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি তার দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে খুব বেশি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেননি। ব্রাজিল দলের ভক্তদের জন্য সবচেয়ে স্বস্তির খবর হলো দলের প্রাণভোমরা নেইমার জুনিয়র এখন পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার পথে।
চোট পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় তার অসাধারণ উন্নতি কোচিং স্টাফদের আশাবাদী করে তুলেছে। আনচেলত্তি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, নেইমারের শারীরিক অবস্থা এখন আগের তুলনায় অনেক ভালো এবং তাকে এবারের ম্যাচে মাঠে দীর্ঘ সময় দেখার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ম্যাচে মাত্র ১৫ মিনিট খেলার সুযোগ পেলেও, জাপানের বিপক্ষে কৌশলগত কারণে নেইমারকে শুরু থেকেই বা ম্যাচের অনেকটা সময় মাঠে দেখা যেতে পারে। দলের সেরা তারকাকে নিয়ে কোচের এমন ইতিবাচক মন্তব্য ব্রাজিল সমর্থকদের মনে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি একাদশ সম্পর্কে খোলাসা না করলেও, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ দলটিতে বড় কোনো রদবদল না আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, রক্ষণভাগ, মিডফিল্ড এবং আক্রমণভাগে বর্তমান সমন্বয়টি দলের জন্য সঠিক।
বিশেষ করে স্কটিশদের বিপক্ষে লেফট উইংয়ে রাফিনিয়ার পরিবর্তে রায়ানের পারফরম্যান্স কোচকে নতুন বিকল্প ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে। রক্ষণভাগে দানিলো, মার্কিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল মাঘালায়েস ও ডগলাস সান্তোস নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন।
মিডফিল্ডে অভিজ্ঞ ক্যাসেমিরোর সঙ্গে ব্রুনো গুইমারেস এবং লুকাস পাকেতার রসায়ন ব্রাজিলের আক্রমণভাগের জন্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশে গোলরক্ষক হিসেবে থাকছেন আলিসন বেকার। রক্ষণভাগে দায়িত্ব সামলাবেন দানিলো, মার্কিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল মাঘালায়েস ও ডগলাস সান্তোস।
মিডফিল্ডের ভার থাকবে ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গুইমারেস ও লুকাস পাকেতার ওপর। আর আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে থাকবেন ম্যাথিউস কুনহা ও রায়ান। কোচ আনচেলত্তি জাপানিদের অত্যন্ত সুশৃঙ্খল দল হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন যে, প্রতিপক্ষের শক্তি ও কৌশলের কথা মাথায় রেখেই তারা জয়ের পরিকল্পনা সাজিয়েছেন।
দিনের শেষে মাঠের ফুটবলে পূর্ণ মনোযোগ এবং সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নই জয় নিশ্চিত করার চাবিকাঠি বলে মনে করেন তিনি। ব্রাজিল ও জাপানের মধ্যকার অতীত পরিসংখ্যান সেলেসাওদের পক্ষে কথা বললেও, বর্তমান সময়টি বেশ ভিন্ন।
দুই দলের মধ্যকার ১৪টি মুখোমুখি লড়াইয়ের মধ্যে ব্রাজিল ১১টিতে জয়ী হয়েছে এবং মাত্র একটি ম্যাচে জয় পায় জাপান। তবে গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে জাপানের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হার ব্রাজিলের জন্য ছিল এক বড় ধাক্কা।
সেই ম্যাচে জাপানিদের আক্রমণভাগের ক্ষিপ্রতা এবং কৌশলগত দক্ষতা পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের রক্ষণভাগকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল। জাপানের ইতিহাসে ব্রাজিলের বিপক্ষে সেটিই ছিল সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড।
আজকের ম্যাচে সেই দুঃস্মৃতি ভুলে গিয়ে নতুন করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সুযোগ রয়েছে আনচেলত্তির শিষ্যদের সামনে। ভক্ত ও ফুটবল বোদ্ধাদের দৃষ্টি এখন হিউস্টনের স্টেডিয়ামের দিকে, যেখানে ল্যাটিন ছন্দ আর এশীয় শৃঙ্খলার এক ধুন্ধুমার লড়াই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব।
ব্রাজিল কি পারবে জাপানের এই শক্তিশালী রক্ষণব্যূহ ভেঙে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখতে, নাকি ব্লু সামুরাইরা আবারও কোনো অঘটন ঘটিয়ে চমকে দেবে বিশ্বকে- তা জানা যাবে আজ রাতের ম্যাচেই।