বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপের মঞ্চে দাপুটে মেক্সিকো, কতদূর যেতে পারে ‘উড়তে থাকা স্বাগতিকরা’

আর এন এস স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

বিশ্বকাপের মঞ্চে দাপুটে মেক্সিকো, কতদূর যেতে পারে ‘উড়তে থাকা স্বাগতিকরা’
ছবি : Collected

 

ফিফা বিশ্বকাপের বর্তমান আসরের অন্যতম সহ-আয়োজক দেশ মেক্সিকো তাদের মাঠের পারফরম্যান্সে রীতিমতো মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলগুলোকে পেছনে ফেলে এবারের টুর্নামেন্টে তারা খেলছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে।

 

গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের ওপর নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে দাপুটে জয় তুলে নেওয়া মেক্সিকানরা সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে রাউন্ড অব ৩২-এর গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়েও। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৪০ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের আধিপত্যের প্রমাণ দিল জাভিয়ার অ্যাগুইরের শিষ্যরা।

 

ফুটবলের প্রতি মেক্সিকানদের যে গভীর আবেগ ও ভালোবাসা, এবারের বিশ্বকাপে তা মাঠের দুর্দান্ত লড়াইয়ের মাধ্যমে আরও একবার স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। স্মৃতি রোমন্থন করলে দেখা যায়, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের আসরটি বসেছিল মেক্সিকোর মাটিতে।

 

সেবারও দলের অন্যতম প্রধান তারকা হিসেবে মাঠে ছিলেন বর্তমান কোচ জাভিয়ার অ্যাগুইরে। সেই আসরে গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছিল দলটি। এমনকি নকআউট পর্বে বুলগেরিয়াকে ২-০ গোলে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালেও পৌঁছে গিয়েছিল তৎকালীন আয়োজকরা।

 

যদিও পশ্চিম জার্মানির কাছে টাইব্রেকারে দুর্ভাগ্যজনক পরাজয় বরণ করায় সেবার আর সেমিফাইনালের টিকিট পাওয়া হয়নি তাদের। ১৯৮৬ সালের সেই বিশ্বকাপের পর থেকে গত আটটি আসরে মেক্সিকো বারবার গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও, প্রতিবারই তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা থমকে গিয়েছিল প্রথম রাউন্ডেই।

 

দীর্ঘ চার দশক ধরে চলা সেই ব্যর্থতার বৃত্ত এবার সাফল্যের সাথে ভেঙে ফেলেছেন অ্যাগুইরের শিষ্যরা। এখন পুরো মেক্সিকো তাকিয়ে আছে তাদের নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের দিকে, যারা ইতিহাসকে পুনরায় লেখার অপেক্ষায় রয়েছে।

 

তবে স্বপ্নের কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখাতে হলে মেক্সিকোকে সামনে মোকাবিলা করতে হবে এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার। নকআউট পর্বের পরবর্তী ধাপে সহ-আয়োজক দলটিকে লড়তে হবে ইংল্যান্ড ও কঙ্গোর মধ্যকার ম্যাচে জয়ী দলের বিপক্ষে।

 

ফুটবলপ্রেমী এবং বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সেই লড়াইয়ে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে ইংলিশরা। অর্থাৎ, পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নিতে হলে মেক্সিকোকে ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের সেরা ফুটবলটি উপহার দিতে হবে।

 

যদি তারা কোনোক্রমে সেই বড় বাধা অতিক্রম করতে পারে, তবে কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে পারে ফুটবলের চিরকালীন পরাশক্তি ব্রাজিল কিংবা বর্তমান সময়ের আলোচিত দল নরওয়ে। এমন এক চ্যালেঞ্জিং সমীকরণ সামনে থাকলেও মেক্সিকান সমর্থকদের মনে আশা জেগেছে তাদের দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে।

 

ফুটবল ইতিহাসের পরিসংখ্যান এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর যোগসূত্র স্থাপন করলে দেখা যায়, শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মেক্সিকোর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৯৭০ এবং ১৯৮৬-এই দুই আসরই বসেছিল মেক্সিকোর মাটিতে এবং কাকতালীয়ভাবে উভয় আসরেই তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলার কৃতিত্ব অর্জন করেছিল।

 

স্বাগতিক হওয়ার বাড়তি সুবিধা এবং সমর্থকদের অকুণ্ঠ সমর্থন সেবার তাদের পারফরম্যান্সে বাড়তি জ্বালানি জুগিয়েছিল। বর্তমান দলটির আত্মবিশ্বাস এবং দলের ছন্দ দেখে অনেকে বিশ্বাস করছেন, পুরোনো সেই ধারাবাহিকতা এবারও অব্যাহত থাকতে পারে।

 

এমনকি ইংল্যান্ডের মতো পরাশক্তিকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সেরা আটে জায়গা করে নেওয়ার এক অভাবনীয় সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে। পরিসংখ্যান ও গাণিতিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত অপ্টা সুপারকম্পিউটারের সাম্প্রতিক প্রেডিকশনেও মেক্সিকোর জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে বেশ ইতিবাচক ধারণা দেওয়া হয়েছে।

 

সুপারকম্পিউটারের হিসেব অনুযায়ী, পরবর্তী ম্যাচে জয়ের জন্য মেক্সিকানদের ৫০ শতাংশের বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রযুক্তির এই পূর্বাভাস এবং খেলোয়াড়দের মাঠের পারফরম্যান্সের সমন্বয় যদি টিকে থাকে, তবে এবারের বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেক্সিকো নিজেদের নামকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবে-এমনটিই বিশ্বাস করছেন বিশ্বব্যাপী অগণিত মেক্সিকান ভক্ত।

 

এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা, জাভিয়ার অ্যাগুইরের রণকৌশল এবং খেলোয়াড়দের অদম্য জেদ মেক্সিকোকে বিশ্বকাপের সেরা আটে নিয়ে যেতে পারে কি না, তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।