বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসি নয়, লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয়, রেকর্ডের চেয়ে দলীয় সাফল্যে অবিচল এমবাপ্পে

আর এন এস স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

মেসি নয়, লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয়, রেকর্ডের চেয়ে দলীয় সাফল্যে অবিচল এমবাপ্পে
ছবি : Collected

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সেই শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালের স্মৃতি যেন এখনো অম্লান। সেই আসরের মঞ্চ থেকে যে লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়েছিল, ২০২৬ বিশ্বকাপের আসরে এসে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে যেন সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন এক অধ্যায় রচনা করছেন।

 

বিশ্বমঞ্চে দলগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেও এই দুই মহাতারকা একে অপরের সমান্তরালে এগিয়ে চলেছেন। বর্তমানে বিশ্বকাপে ১৯টি গোল নিয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে আসীন আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি।

 

অন্যদিকে, মাত্র এক গোল পিছিয়ে ১৮টি গোল নিয়ে তার ঘাড়ে উত্তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলছেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। পরিসংখ্যান ও ব্যক্তিগত রেকর্ডের এই তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবলপ্রেমীদের মনে ব্যাপক রোমাঞ্চ ছড়ালেও, এমবাপের দৃষ্টিভঙ্গি কিন্তু একেবারেই ভিন্ন।

 

ব্যক্তিগত কোনো অর্জনের চেয়ে আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ শিরোপা উঁচিয়ে ধরাকেই এখন জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে স্থির করেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

 

সম্প্রতি সুইডেনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নেওয়ার ম্যাচে জোড়া গোল করে নিজের ফর্মের জানান দিয়েছেন এমবাপে। ম্যাচ শেষে ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলীয় লক্ষ্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য যত দূর সম্ভব এগিয়ে যাওয়া।

 

১৯ জুলাই ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছানো এবং শিরোপা জয়ের স্বাদ নেওয়া-এটাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। মাত্র ১৮টি বিশ্বকাপ ম্যাচে ১৮টি গোল করে এক অবিশ্বাস্য গড়ের সাক্ষী হয়ে থাকা এই তরুণ তারকা আরও বলেন, আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামছি এবং প্রতিটি ম্যাচকে ধাপে ধাপে জয় করে এগোচ্ছি।

 

ব্যক্তিগত গোল করার তালিকায় উপরে থাকা বা রেকর্ডের বিষয়টি তার কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে এমবাপে জানান। লিওনেল মেসির গোলের ধারা যে ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে, সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত।

 

আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এমবাপে যোগ করেন, আমি নিশ্চিত লিও আরও গোল করবে। তাই বিষয়টি নিয়ে আমি খুব বেশি মনোযোগ দিচ্ছি না। আমার পুরো মনোযোগ এখন সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ এবং মূল লক্ষ্য ফাইনালের আরও কাছাকাছি পৌঁছানোর দিকে।

 

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি দল এখন চরম সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। আগামী শুক্রবার গভীর রাতে আর্জেন্টিনা তাদের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দের। অন্যদিকে, কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে।

 

ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচটি ফরাসিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে জার্মানির মতো শক্তিশালী দলকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্যারাগুয়ে ইতিমধ্যে তাদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে। রক্ষণাত্মক কৌশলে জার্মানিকে স্তব্ধ করে দেওয়ার সেই স্মৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্রান্সের বিপক্ষেও প্যারাগুয়ে একই ধরনের সতর্ক রক্ষণাত্মক ছক কষবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

প্যারাগুয়ের এই কৌশলের বিষয়ে সচেতন এমবাপে বলেন, প্যারাগুয়ে ম্যাচের আগে আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করব এবং মাঠের কোথায় আমাদের উন্নতির সুযোগ আছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। দলের খেলায় কিছু সীমাবদ্ধতা এখনো রয়েছে, যেখানে আমরা যথেষ্ট কার্যকর হতে পারিনি। উন্নতির সুযোগ অবশ্যই আছে এবং আমরা তা কাজে লাগাতে চাই।

 

ফরাসি ফুটবল দলের বর্তমান গোল করার দক্ষতা তাদের এক অপরাজেয় আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল পর্বে ফ্রান্স মোট ৫৩টি গোল করেছে, যা অন্য যেকোনো দলের চেয়ে অনেক বেশি।

 

এই তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জার্মানি ও আর্জেন্টিনার গোল সংখ্যা ৩৭টি। ফ্রান্সের এই গোল করার দুর্দান্ত সামর্থ্যই এমবাপেকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সামগ্রিকভাবে আমরা অত্যন্ত ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছি।

 

আমাদের গোল করার সামর্থ্য এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে যে, যেকোনো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আমরা রাখি। দলীয় ঐক্যের এই মানসিকতা এবং ব্যক্তিগত অহংবোধ থেকে বেরিয়ে এসে বিশ্বকাপ জয়ের এই তাড়না কিলিয়ান এমবাপেকে কেবল একজন দুর্দান্ত ফরোয়ার্ড নয়, বরং একজন সত্যিকারের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখন দেখার বিষয়, ১৯ জুলাইয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার হাতে ওঠে সোনার ট্রফি।