মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইনফান্তিনোর সময় ফুরিয়ে এসেছে, লা লিগা প্রধান

আর এন এস স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৬, ০৮:১১ পিএম

ইনফান্তিনোর সময় ফুরিয়ে এসেছে, লা লিগা প্রধান
ছবি : Collected

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং এর প্রভাবশালী সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর শুরু হওয়া থেকে শেষ পর্যন্ত একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ধারাবাহিক সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফিফা প্রধান।

 

এবার সেই বিতর্কে ঘি ঢেলে দিয়েছেন স্প্যানিশ ফুটবলের শীর্ষ প্রতিযোগিতা লা লিগার সভাপতি জাভিয়ের তেবাস। তাঁর মতে, বিশ্ব ফুটবলের ঐতিহ্য ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই সভাপতি হিসেবে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সময় এখন পুরোপুরি ফুরিয়ে এসেছে।

 

ফুটবলের মতো বিশাল ও সর্বজনীন শিল্পকে ফিফা নিজের কায়েমি স্বার্থে ধ্বংস করছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি প্রকাশ্যেই ফিফা প্রধানের আশু পদত্যাগ দাবি করেছেন। ইতালির বিখ্যাত ক্রীড়া সংবাদপত্র ‘লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত’-কে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তেবাস বিশ্ব ফুটবলের ভেতরের নানাবিধ অনিয়ম ও কৌশলগত ভুল সিদ্ধান্তের কথা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় তুলে ধরেন।

 

সাক্ষাৎকারে লা লিগা প্রধান তেবাস ফিফার সাম্প্রতিক বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিশ্বকাপের ইতিহাসে ম্যাচ চলাকালীন বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক প্রবর্তন, ফাইনাল ম্যাচের প্রথমার্ধের বিরতির সময় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে ২৭ মিনিট করা, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড সাময়িকভাবে স্থগিত করা এবং ভবিষ্যতে বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৪ দল করার অভিনব পরিকল্পনা।

 

ইনফান্তিনোর প্রশাসনিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তেবাস স্পষ্ট জানান যে, ফিফা প্রধানের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত। তবে তিনি হতাশার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনগুলোর সমর্থন এবং নির্বাচন ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ইনফান্তিনো স্বপদে বহাল রয়েছেন।

 

তাঁর মতে, পরাজয়ের আশঙ্কায় কেউ নির্বাচনে দাঁড়াতে চায় না, ফলে ফিফার প্রশাসনিক কাঠামো কার্যত নিশ্চল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালের সময় উপস্থিত থেকে তিনি অনুভব করেছেন যে, ফুটবলের চরম ক্ষতি জেনেও অনেকে নিছক স্বার্থে নীরব সম্মতি দিয়ে যাচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্য এক মারাত্মক অশনিসংকেত।

 

ফিফার আগামী মার্চ মাসের কংগ্রেসে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তেবাস মনে করেন, আমেরিকার খেলোয়াড় ফোলারিন বালোগানের ওপর থেকে লাল কার্ডের শাস্তি তুলে নেওয়ার বিষয়টি ছিল অত্যন্ত গুরুতর একটি অসংগতি।

 

বেলজিয়াম যদি যুক্তরাষ্ট্রকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় না করত, তবে এই এক অনিয়মের কারণেই হয়তো ইনফান্তিনোকে তাঁর পদ খোয়াতে হতো। বেলজিয়ামের জয়ের ফলে ফিফা বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ পেলেও, এটিকে বিশ্ব ফুটবলের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার একটি ছোট্ট উদাহরণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

তা ছাড়া, ভবিষ্যতে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণ যুক্তিহীন বলে আখ্যা দেন তেবাস। তিনি বলেন, হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী ঘরোয়া লিগগুলোই মূলত ফুটবলকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা কমিয়ে দেশীয় ফুটবলের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন এই ক্রীড়া সংগঠক।

 

বিশ্বকাপ চলাকালে স্টেডিয়ামগুলোতে প্রবর্তিত তিন মিনিটের ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ এবং দীর্ঘ বিরতি নিয়ে ফিফার ব্যাখ্যাকে পুরোপুরি ‘মিথ্যা ও ধান্ধাবাজিপূর্ণ অজুহাত’ বলে অভিহিত করেছেন তেবাস। ফিফা কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, তীব্র গরমে খেলোয়াড়দের শারীরিক সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

 

কিন্তু লা লিগা প্রধান তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ডালাস, লস অ্যাঞ্জেলেস কিংবা আটলান্টার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক স্টেডিয়ামগুলোতে গ্যালারিতে বসে সোয়েটার পরতে হয়েছে, অথচ সেখানেও বিরতি দেওয়া হয়েছে।

 

মূলত বাণিজ্যিক সম্প্রচারক সংস্থাগুলোর বিজ্ঞাপন থেকে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুবিধার্থেই ফিফা কৃত্রিমভাবে খেলা থামিয়ে বিরতি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে পপ তারকাদের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী ১৫ মিনিটের প্রথমার্ধের বিরতি বাড়িয়ে ২৭ মিনিট ২২ সেকেন্ড করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফিফা সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে কেবল নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থে এসব রূপরেখা তৈরি করছে।

 

এতে ঘরোয়া লিগগুলোর ক্ষতি হলেও বিশ্বের পরাক্রমশালী ফিফা বাকি ফুটবল কাঠামোর কথা বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করছে না, যা পুরো ফুটবল শিল্পের জন্য এক অশনিসংকেত।