উদ্বোধনী ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিমের ঐতিহাসিক শতক এবং মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তর দায়িত্বশীল জোড়া অর্ধশতকে ভর করে দ্বিতীয় দিন শেষে চালকের আসনে বসেছে সফরকারীরা। দিন শেষে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান তুলে স্বাগতিকদের চেয়ে ১৫৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড নিয়েছে বাংলাদেশ।
এর আগে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের নিখুঁত বোলিং আক্রমণের মুখে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায়। জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই চরম ধৈর্য ও দক্ষতার পরিচয় দেন তানজিদ হাসান তামিম।
তিনি প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে টেস্ট শতক অর্জনের বিরল গৌরব অর্জন করেন। তাঁর সাবলীল ইনিংসের পাশাপাশি অভিজ্ঞ মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দৃঢ়তাপূর্ণ অর্ধশতক বাংলাদেশের রানের চাকা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
দিনের শেষ ভাগে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ ক্রিজে অবিচল থেকে দলের বড় লিড নিশ্চিত করেন। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের সার্বিক পরিকল্পনা তুলে ধরে তানজিদ তামিম জানান, উইকেটের আচরণ এখনো ব্যাটারদের পক্ষে রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি যতক্ষণ উইকেটে ব্যাটিং করেছি, পিচ বেশ ভালো ছিল। পরবর্তীতে হাসান ও মিরাজ ভাইয়ের ব্যাটিংয়ের সময়ও উইকেটের ইতিবাচক আচরণ স্পষ্ট বোঝা গেছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা বেশ আঁটসাঁট ও নিয়ন্ত্রিত লাইনে বল করেছে।
আমরা যত বেশি সময় ক্রিজে টিকে থাকতে পারব, দলের জন্য তা ততই মঙ্গলজনক হবে।” তানজিদ আরও যোগ করেন, ম্যাচের এখনও তিন দিন বাকি থাকায় তাদের প্রধান লক্ষ্য যত বেশি সম্ভব সেশন ধরে ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়া এবং বড় সংগ্রহের মাধ্যমে বোলারদের কাজ সহজ করে দেওয়া।
অন্যদিকে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়লেও ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া। দিনের খেলা শেষে দলের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে আসা অজি অলরাউন্ডার বিউ ওয়েবস্টার জানান, দল ব্যাকফুটে থাকলেও ড্রেসিংরুমের ইতিবাচক মানসিকতা এখনো অটুট।
তিনি বলেন, “আমাদের ড্রেসিংরুমের ক্রিকেটারদের যে সামর্থ্য ও গভীরতা রয়েছে, তাতে সবাই বিশ্বাস করে যে এই ম্যাচ জয়ের সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আমাদের প্রথম কাজ হলো আগামীকালের শুরুতেই বাংলাদেশের বাকি চারটি উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়া এবং এরপর অন্তত দেড় থেকে দুই দিন সুশৃঙ্খল ব্যাটিং করা।”
ডারউইনের তীব্র গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে পুরো দিন ফিল্ডিং করাকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে অস্ট্রেলীয় এই অলরাউন্ডার প্রতিপক্ষের প্রশংসায় ছিলেন অকপট। তিনি বলেন, “দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার পর আমরা দ্রুত কিছু উইকেট তুলে নিতে পেরেছিলাম, কিন্তু এরপরও বাংলাদেশ চমৎকারভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
সকালে উইকেটের সুবিধা তারা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে এবং স্পিন ও পেস উভয় আক্রমণেই ভারসাম্য বজায় রেখে খেলেছে। কখনো আক্রমণ করে আবার কখনো চাপ সামলে তারা নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে, যা শীর্ষ পর্যায়ের টেস্ট ক্রিকেটেরই প্রতিফলন।”
অস্ট্রেলিয়ার এই অলরাউন্ডার আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটাররা দীর্ঘ সময় ক্রিজে টিকে থেকে রানের গতি সচল রাখতে পারলে চতুর্থ ইনিংসে জীর্ণ উইকেটে সফরকারীদের ওপর চাপ ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব। ম্যাচের এখনো তিন দিন বাকি থাকায় এই লড়াই পঞ্চম দিন পর্যন্ত গড়ানোর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।