শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯১ বছরের পুরোনো ক্লাব রেকর্ড ভাঙলেন লামিনে ইয়ামাল!

আর এন এস স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

৯১ বছরের পুরোনো ক্লাব রেকর্ড ভাঙলেন লামিনে ইয়ামাল!
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ ও মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে শিরোপা জয়ের পর ক্লাব ফুটবলে ফিরে নিজের চেনা ও স্বাভাবিক ছন্দটা যেন কিছুটা হারিয়ে ফেলেছিলেন স্প্যানিশ বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল।

 

আন্তর্জাতিক বিরতির পর নতুন মৌসুমের শুরুতে তাই এই তরুণ তারকাকে ঘিরে ভক্ত ও বিশ্লেষকদের গগনচুম্বী প্রত্যাশার সঙ্গে তাঁর মাঠের পারফরম্যান্সের কিছুটা ব্যবধান বা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে গত সোমবার রাতে স্প্যানিশ লা লিগার এক রোমাঞ্চকর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে সেই সব সমালোচনা ও দূরত্বের চিরতরে অবসান ঘটালেন তিনি।

 

রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে জোড়া গোল করার মাধ্যমে শুধু নিজের পুরোনো ও বিধ্বংসী রূপেই ফিরলেন না, একই সঙ্গে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করে নিলেন ১৯ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান ফরোয়ার্ড।

 

স্পেনের শীর্ষ স্তরের ফুটবল প্রতিযোগিতা লা লিগার ওই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কাতালান জায়ান্ট বার্সেলোনা ৫-২ গোলের বিশাল ও দাপুটে ব্যবধানে রায়ো ভায়েকানোকে পরাজিত করে। এই স্মরণীয় জয়ের রাতে ইয়ামাল ছাড়াও বার্সেলোনার হয়ে জোড়া গোল করে উপস্থিত হাজারো দর্শককে আনন্দে ভাসান ব্রাজিলিয়ান তারকা উইঙ্গার রাফিনহা।

 

দলের পাওয়া অপর গোলটি আসে প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়ের দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী ভুল থেকে। তবে মাঠের খেলায় অন্য সব খেলোয়াড়রা ভালো পারফর্ম করলেও, পুরো ম্যাচের সবটুকু আলো ও মনোযোগ যেন নিজের দিকেই টেনে নিয়েছিলেন লামিনে ইয়ামাল।

 

তার দুর্দান্ত বল নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা, নিখুঁত ড্রিবলিং, অসাধারণ পাসিং এবং গোলমুখে ক্ষিপ্রতা ফুটবলপ্রেমী থেকে শুরু করে সমালোচকদেরও গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। ম্যাচের প্রথমার্ধের ঠিক ২১তম মিনিটে প্রথমবার প্রতিপক্ষের জালের দেখা পান ইয়ামাল, যা দলকে শুরুতেই একটি শক্ত ভিত্তি ও আত্মবিশ্বাস এনে দেয়।

 

এরপর পুরো নব্বই মিনিট জুড়ে আক্রমণভাগে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে একেবারে শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ ম্যাচের ৯০ মিনিটে দলের হয়ে আরও একবার বল জালে জড়ান তিনি। এই চমৎকার জোড়া গোলের সুবাদে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার জার্সিতে তাঁর মোট গোলসংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৫১টিতে।

 

আর এই ৫১তম গোলের কাঙ্ক্ষিত মাইলফলক স্পর্শ করার পথে তিনি একসঙ্গে দুটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও ইতিহাস সৃষ্টিকারী রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন, যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে ব্যাপক উন্মাদনা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের সুদীর্ঘ ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে ক্লাব ফুটবলের হয়ে ৫০টি গোল করার অনন্য ও বিরল কীর্তিটি এখন একান্তই লামিনে ইয়ামালের দখলে চলে গেছে। মাত্র ১৯ বছর এবং ৪৯ দিন বয়সে তিনি এই অভাবনীয় মাইলফলকে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।

 

এর আগে এই অত্যন্ত সম্মানজনক রেকর্ডটি ছিল বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের দখলে। ফরাসি এই ফরোয়ার্ড ১৯ বছর ২৪১ দিন বয়সে ক্লাব ফুটবলে নিজের ক্যারিয়ারের ৫০তম গোলটি করেছিলেন।

 

এই অভিজাত তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন নরওয়ের গোলমেশিন হিসেবে পরিচিত আর্লিং হালান্ড, যিনি ২০ বছর ১৯৬ দিন বয়সে এই মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন। তবে ইয়ামালের ইতিহাস গড়ার দুর্দান্ত গল্প এখানেই থেমে থাকেনি।

 

ইউরোপীয় রেকর্ডের পাশাপাশি নিজের প্রিয় ক্লাব বার্সেলোনার হয়েও ৫০ গোল করার ক্ষেত্রে তিনি ভেঙে দিয়েছেন ৯১ বছরের এক পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী রেকর্ড। ইতিহাসের পাতা ঘাটলে দেখা যায়, ১৯৩৫ সালে জোসেপ এস্কোলা মাত্র ২০ বছর ৩৫৬ দিন বয়সে বার্সেলোনার জার্সিতে ৫০ গোল করে এই রেকর্ডটি গড়েছিলেন।

 

শতাব্দীর কাছাকাছি সময় ধরে টিকে থাকা সেই অটুট রেকর্ডের পর বিশ্ব ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসিও ২১ বছর ১২০ দিন বয়সে বার্সেলোনার হয়ে ৫০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে পেরেছিলেন। কিন্তু এবার অতীত ও বর্তমানের এই দুই কিংবদন্তি খেলোয়াড়কেই বয়সের হিসাবে অনেক পেছনে ফেলে দিলেন ইয়ামাল।

 

মাত্র ১৯ বছর ৪৯ দিন বয়সেই বার্সেলোনার মতো বিশ্বনন্দিত ও ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের হয়ে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা নিঃসন্দেহে এক অতিমানবিক ও অভাবনীয় অর্জন। এই অনন্য কীর্তির মাধ্যমে তিনি শুধু লিওনেল মেসির মতো সর্বকালের অন্যতম সেরা মহাতারকার রেকর্ডই অতিক্রম করেননি, বরং জোসেপ এস্কোলার গড়া ৯১ বছরের পুরোনো ও অক্ষত ক্লাব রেকর্ডটিও এখন পাকাপাকিভাবে ইয়ামালের নামের পাশে যুক্ত হয়েছে।

 

তাঁর এই অনবদ্য ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে, বিশ্ব ফুটবলের আগামী দিনগুলোতে তিনি কতটা প্রভাবশালী ও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে চলেছেন। পেশাদার ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চোটমুক্ত থেকে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে স্প্যানিশ এই তরুণ প্রতিভা আগামী দিনে আরও অনেক অধরা ও অসম্ভব রেকর্ড নিজের করে নেবেন।