ক্লাবের সভাপতি ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মোহাম্মদ আবদুল মুবীন (অব.) এই সভায় সভাপতিত্ব করেন। ২০১১ সালে ক্লাবটি লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হওয়ার পর সদস্যপদই ক্লাবের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। ক্লাবের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই মূলত এই বিশেষ সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সদস্য অন্তর্ভুক্তির জন্য আর্থিক অনুদান এবং মাসিক চাঁদা বৃদ্ধির বিষয়টি অনুমোদিত হয়।
পূর্বে মোহামেডান ক্লাবের স্থায়ী সদস্য পদের জন্য ৩ লক্ষ টাকা লাগলেও (গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের জন্য সদস্যদের দেওয়া চিঠিতে যা ১ লক্ষ উল্লেখ ছিল), তা একলাফে বাড়িয়ে দশ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। এর মধ্যে সাত লক্ষ টাকা এককালীন অনুদান এবং তিন লক্ষ টাকা পরিষেবা মাশুল (সার্ভিস চার্জ) হিসেবে গণ্য হবে। শুধু তাই নয়, সদস্যদের মাসিক চাঁদার পরিমাণও ৩০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। স্থায়ী সদস্যপদ ছাড়াও ক্লাবের 'দাতা সদস্য' (ডোনার) হওয়ার ক্ষেত্রেও ফির পরিমাণ ৫ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ২৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।
গঠনতন্ত্রের ৯-এর 'খ' ধারায় এই সংশোধনগুলো আনা হয়। আর্থিক পরিবর্তন ছাড়াও এই সভায় ক্লাবের গঠনতন্ত্রে একটি বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। মোহামেডানের বিদ্যমান গঠনতন্ত্রের ৪০ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ ছিল, পরিচালনা পর্ষদের কোনো সদস্য একই পদে টানা দুই মেয়াদের বেশি থাকতে পারবেন না। এক মেয়াদ বিরতি দিয়েই কেবল তিনি পুনরায় পর্ষদে ফিরতে পারতেন। আজকের বিশেষ সভায় এই ধারাটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর ফলে, এখন থেকে পরিচালনা পর্ষদে টানা কয়েকবার দায়িত্ব পালনে আর কোনো আইনি বাধা রইলো না।
মোহামেডান ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ সাধারণত দুই বছর। ২০২১ সালে ক্লাবের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, ফলে বর্তমান পর্ষদ ইতোমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ। এই প্রসঙ্গে ক্লাবের স্থায়ী সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, "ক্লাবের নির্বাচন আয়োজনের জন্য আদালতের একটি নির্দেশনা রয়েছে, যা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।" তবে আগামী ফেব্রুয়ারিতেই দেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
এমন পরিস্থিতিতে মোহামেডান কর্তৃপক্ষ ফেব্রুয়ারির আগেই ক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন করবে, নাকি আদালতের কাছে পুনরায় সময় প্রার্থনা করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। এদিকে, ক্লাবটি দেশের প্রধান তিনটি খেলা-ফুটবল, ক্রিকেট ও হকিতে-অংশগ্রহণ করলেও বর্তমানে ফুটবল দল নিয়ে এক গভীর সংকটে রয়েছে। বিদেশি ফুটবলারদের পারিশ্রমিক বকেয়া থাকায় ফিফা মোহামেডানের নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
আজকের সভায় নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচির বাইরেও ফুটবলের এই চলমান সংকট, বিশেষ করে আর্থিক সংকট উত্তরণ ও ক্লাবের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় মোহামেডানের অনেক সাবেক তারকা ক্রীড়াবিদ উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন দাবাড়ু নিয়াজ মোরশেদ, সাবেক ফুটবলার সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, আমিনুল হক, সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক রকিবুল হাসান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এবং হকির তারকা খেলোয়াড় রাসেল মাহমুদ জিমি।