দীর্ঘদিনের সম্প্রচার সহযোগী দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘রিয়েল ইম্প্যাক্ট’-এর পরিবর্তে এবার বিপিএলের সম্প্রচার প্রযোজনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘ট্রান্স প্রোডাকশন টেকনোলজিস’-কে। বিসিবির এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের ফলে এবারের আসরে সম্প্রচারের গুণগত মানে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত প্রায় সব ক্রিকেট ম্যাচের সম্প্রচার প্রযোজনার দায়িত্বে ছিল রিয়েল ইম্প্যাক্ট। তবে বিপিএলের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টকে বিশ্বমানের করে তোলার তাগিদ থেকে বিসিবি এবার ‘নতুন প্রোডাকশন স্ট্যান্ডার্ড’ বা নতুন সম্প্রচার মানদণ্ড স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই ৩৫ বছরের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ট্রান্স গ্রুপকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
বিসিবি কর্মকর্তাদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে কেবল প্রযুক্তির উন্নয়নই নয়, বরং আর্থিক সাশ্রয়ের বিষয়টিও প্রধান ভূমিকা রেখেছে। নতুন এই চুক্তির ফলে বোর্ডের কোষাগারে প্রায় ৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে, যা আগের ব্যবস্থাপনার তুলনায় অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি লাভজনক ও যুক্তিযুক্ত। ট্রান্স প্রোডাকশন টেকনোলজিস আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রচার জগতে অত্যন্ত পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য একটি নাম।
তাদের কাজের পরিধি এবং অভিজ্ঞতা বা পোর্টফোলিও বেশ ঈর্ষণীয়। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) এবং এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) মতো প্রভাবশালী ও বড় ক্রিকেট সংস্থাগুলোর অফিসিয়াল সম্প্রচার সহযোগী হিসেবে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের।
এছাড়াও পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) এবং টি-টেন লিগের মতো হাই-প্রোফাইল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টগুলোর সম্প্রচার প্রযোজনার দায়িত্ব তারা নিয়মিত ও সফলভাবে পালন করে আসছে। এমনকি আসন্ন আইএলটি-২০ লিগের মতো বড় আসরের দায়িত্বও তাদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে, যা তাদের কারিগরি দক্ষতার প্রমাণ বহন করে।
ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ছিল বিপিএলের সম্প্রচার মান নিয়ে। আন্তর্জাতিক অন্যান্য টুর্নামেন্টগুলোর তুলনায় ক্যামেরা ওয়ার্ক, গ্রাফিক্স এবং সামগ্রিক উপস্থাপনায় কিছুটা পিছিয়ে ছিল দেশের এই প্রধান টি-টোয়েন্টি আসর। বিসিবির এই নতুন চুক্তির ফলে সেই আক্ষেপ ঘুচবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আর্থিক সাশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক মানের সম্প্রচার-উভয় দিক বিবেচনায় বিসিবির এই সিদ্ধান্তকে একটি সময়োপযোগী ও পেশাদার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন মাঠের ক্রিকেটের রোমাঞ্চের সঙ্গে ট্রান্স প্রোডাকশনের আধুনিক কারিগরি দক্ষতা মিলে এবারের বিপিএল দর্শকদের জন্য কতটা উপভোগ্য হয়ে ওঠে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।