অন্যদিকে, নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা মালয়েশিয়া এই হারের ফলে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই আজারবাইজান ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং সুশৃঙ্খল। রেফারি বাঁশি বাজানোর মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই তারা গোলের দেখা পায়। দলের ২০ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় বোজদাগ পেরিতান প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে এক দুর্দান্ত গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।
এই প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আবারও মালয়েশিয়ার জালে বল জড়ায় আজারবাইজানিরা। ম্যাচের ২৪তম মিনিটে নিগার মির্জালিয়েভা দূরপাল্লার এক অসাধারণ শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ২-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আজারবাইজান, যা ম্যাচে তাদের শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মালয়েশিয়া। দলের তারকা ফরোয়ার্ড আইনসিয়াহ এবং ৭ নম্বর জার্সিধারী জাসিয়াহ বেশ কয়েকটি গোছানো আক্রমণ তৈরি করেন, কিন্তু আজারবাইজানের রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য প্রাচীরের মতো। মালয়েশিয়ার বদলি গোলরক্ষক নুর ইজ্জা আশিকিন বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দলের পরাজয়ের ব্যবধান বাড়তে দেননি।
বিশেষ করে ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে আজারবাইজানের আজার ইয়েলিজ একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া না করলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আজারবাইজান। উল্লেখ্য, এই সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে গত বুধবার স্বাগতিক বাংলাদেশকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল মালয়েশিয়া। শনিবারের ফলাফলের পর টুর্নামেন্টের সমীকরণ এখন অত্যন্ত রোমাঞ্চকর মোড় নিয়েছে।
সবার দৃষ্টি এখন আগামী মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিরিজের শেষ ও নির্ণায়ক ম্যাচের দিকে, যেখানে স্বাগতিক বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে আজারবাইজানের। বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচটি বাঁচা-মরার লড়াই। সমীকরণ অনুযায়ী, যদি আজারবাইজান শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে পরাজিত করে, তবে তারা অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা ঘরে তুলবে।
অন্যদিকে, যদি বাংলাদেশ শক্তিশালী আজারবাইজানকে হারিয়ে দিতে সক্ষম হয়, তবে টুর্নামেন্টের তিনটি দলেরই পয়েন্ট সমান হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে গোল ব্যবধান বা অন্যান্য টাইব্রেকার নিয়মের ওপর ভিত্তি করে সিরিজের বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে। ফলে মঙ্গলবার ঢাকার মাঠে এক টানটান উত্তেজনার ম্যাচের অপেক্ষায় রয়েছে ফুটবলপ্রেমীরা।