সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রবল লড়াইয়ের পরও আজারবাইজানের কাছে হার, ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা সফরকারীদের

আর এন এস স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৯:২৭ পিএম

জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রবল লড়াইয়ের পরও আজারবাইজানের কাছে হার, ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা সফরকারীদের
ছবি: Collected

মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী আজারবাইজানের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭৪তম স্থানে থাকা ইউরোপীয় এই দলটির চেয়ে শক্তিমত্তায় বেশ পিছিয়ে থাকলেও, মাঠে পিটার বাটলারের শিষ্যরা যে অদম্য সাহস ও লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা ছিল এক কথায় প্রশংসনীয়।

 

তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার কাছে হার মানতে হয়েছে স্বাগতিকদের। ২-১ গোলের ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে টানা দুই জয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে আজারবাইজান। ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ হাই-লাইন ডিফেন্সিভ কৌশল বা রক্ষণাত্মক অবস্থান বজায় রেখে খেলতে থাকে, যা এর আগে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও দেখা গিয়েছিল।

 

যদিও আজারবাইজানের দক্ষ ফরোয়ার্ডরা কয়েকবার বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ভেদ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু স্বাগতিক ডিফেন্ডারদের ত্বরিত পুনরুদ্ধার এবং অফসাইড ফাঁদ তাদের বারবার আটকে দেয়। তবে খেলার ১৯তম মিনিটে ডেডলক ভাঙে সফরকারীরা। আজারবাইজানের অধিনায়ক জাফারজাদা সেভিঞ্জ অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়ান।

 

গোল করার পরপরই মাঠে এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়; সেভিঞ্জ কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সতীর্থরা একটি সাদা কাপড়ে আঁকা ছবি প্রদর্শন করে তাকে সান্ত্বনা দেন। পরবর্তীতে জানা যায়, অধিনায়ক তার এই গোলটি সদ্য প্রয়াত মায়ের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন। পিছিয়ে পড়েও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েনি বাটলারের তরুণ বাহিনী। গোল শোধ করতে তারা মরিয়া হয়ে ওঠে এবং ৩৪তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যও ধরা দেয়।

 

স্বপ্না রানীর কর্নার কিক থেকে আসা বলটি পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় আজারবাইজানের রক্ষণভাগ। সেই সুযোগে রিবাউন্ড থেকে বল পেয়ে মিডফিল্ডার মারিয়া মান্দা দুর্দান্ত এক শটে স্কোরলাইন ১-১ করেন। প্রথমার্ধের ঠিক আগ মুহূর্তে আজারবাইজান আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশ দলের গোলরক্ষক রূপনা চাকমার অসাধারণ দৃঢ়তায় সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ফলে ১-১ গোলের সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

 

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই জয়ের জন্য আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। বাংলাদেশ প্রতি-আক্রমণে ভীতি ছড়ালেও আজারবাইজান তাদের শারীরিক ও কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব কাজে লাগিয়ে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্তটি আসে খেলার শেষলগ্নে, ৮২তম মিনিটে। বাম প্রান্ত থেকে আসা একটি নিচু ক্রস থেকে মানিয়া এসরা নিখুঁত ভলিতে গোলরক্ষক রূপনাকে পরাস্ত করেন এবং দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

 

শেষ কয়েক মিনিটে বাংলাদেশ গোল শোধের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও তা আর সম্ভব হয়নি। ফাইনাল হুইসেলের সঙ্গে সঙ্গে আজারবাইজানের শিরোপা নিশ্চিত হয়। তবে হারের স্বাদ পেলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের লড়াকু পারফরম্যান্স, সুশৃঙ্খল রক্ষণ এবং সুযোগ তৈরির ক্ষমতা আগামী দিনের আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্য ইতিবাচক বার্তা রেখে গেল। শারীরিকভাবে এবং কৌশলগতভাবে এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই সাহসী ফুটবল নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ দলকে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।