মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চরম উত্তেজনা ও নানামুখী হুমকির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই বৈঠকে দুই পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে।
কাতার ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ গঠনে সম্মত হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে চলতি সপ্তাহজুড়ে এই বিষয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলেও নিশ্চিত করেছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৈঠকের শুরুটা বেশ নাটকীয় ও উত্তেজনাকর ছিল। একদিকে ইরানের পক্ষ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পুনরায় সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করা হলে ওয়াশিংটন এই নৌপথের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখানে নিজস্ব শুল্ক আদায় শুরু করতে পারে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির দাবি, ট্রাম্পের এমন হুমকির পর ইরানি প্রতিনিধি দল সাময়িকভাবে আলোচনার টেবিল বর্জন করেছিল। তবে কাতার ও পাকিস্তানের কূটনীতিকদের নিবিড় মধ্যস্থতায় পরোক্ষ বার্তা আদান-প্রদান চালু থাকে।
অবশ্য এক মার্কিন কূটনীতিক এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছেন, ইরানি প্রতিনিধিরা কখনোই আলোচনা ছেড়ে যাননি, বরং গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
এবারের আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষই লেবাননে চলমান সংঘাত বন্ধে সম্মত হয়েছে এবং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে গত বুধবার দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সেই সূত্র ধরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রবিবার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু করেন, যা সোমবার ভোররাতে শেষ হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, তেহরান তাদের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ করা রাষ্ট্রীয় অর্থ অবমুক্ত করা এবং ইরানের জন্য একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরু করার প্রতিশ্রুতি আদায়ে সক্ষম হয়েছে।
ইরানের একটি সূত্র জানিয়েছে, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মূল আলোচনা শুরুর আগে তারা জব্দ করা সম্পদ পুনরুদ্ধার ও তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যেকের মতো শর্তগুলো বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই আলোচনার ফলাফল নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষ হলেও পরবর্তী ধাপের রূপরেখা নির্ধারণে কারিগরি কমিটি সেখানেই অবস্থান করছে।