সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ইরানের আট বছরব্যাপী ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা’ যুদ্ধে বিপ্লবী গার্ডবাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, লেবাননে ইসরায়েলের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের জন্য ওয়াশিংটনকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে।
মেহের নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রেক্ষাপটে মোহসেন রেজায়ি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।
তিনি তার বক্তব্যে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যেকার গভীর কৌশলগত সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, বর্তমানে লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েল যে সামরিক তৎপরতা ও উত্তেজনা সৃষ্টির মতো কাজ চালাচ্ছে, তার দায়ভার এড়ানোর কোনো সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতার শর্তাবলী উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
নিজের দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতার আলোকে রেজায়ি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যদি কোনো প্রকার হুমকি দেওয়া হয়, তবে তেহরান চুপ করে বসে থাকবে না।
এ ধরনের যেকোনো উসকানির জবাবে ইরান সুনির্দিষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রকেই জবাবদিহিতার আওতায় আনবে। তিনি মনে করেন, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নীরব সমর্থন বা পরোক্ষ সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের নাজুক পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মোহসেন রেজায়ির এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এমন এক সময়ে এটি এসেছে যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গৃহীত হচ্ছে।
বিশেষ করে লেবানন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থান ওয়াশিংটনের ওপর কূটনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি করতে পারে। ইরানের এই শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টার বক্তব্য আবারও স্পষ্ট করেছে যে, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা নিরসনে তারা কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকতে রাজি নয়, বরং মাঠপর্যায়ে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দায়বদ্ধতাকেও সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।