সোমবার, জুন ২২, ২০২৬
৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব থাকত না- মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৬, ০১:২০ পিএম

ইসরায়েল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব থাকত না- মার্কিন রাষ্ট্রদূত
ছবি : Collected

ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি তার অতীতের একটি অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য আবারও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেছেন যে, পৃথিবীতে ইসরায়েল নামক রাষ্ট্রটির যদি কোনো অস্তিত্ব না থাকত, তবে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নামক শক্তিশালী দেশটিরও জন্ম বা অস্তিত্ব সম্ভব হতো না।

 

সোমবার পশ্চিম জেরুজালেমে ইহুদিদের স্বনামধন্য ও প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা জুইশ টেলিগ্রাফিক এজেন্সি আয়োজিত এক বিশেষ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য রাখার সময় যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ কূটনীতিক এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন।

 

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে তার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্মেলনে উপস্থিত সুধীজনদের সামনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তার নিজস্ব ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির একটি বিস্তারিত এবং সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

 

তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করেন এবং উল্লেখ করেন যে, বর্তমানের সমগ্র পশ্চিমা সভ্যতার মূল ভিত্তি ও বিকাশ মূলত ইহুদি এবং জুডিও-খ্রিস্টান মূল্যবোধ ও সুপ্রাচীন রীতিনীতির ওপর নির্ভর করেই গড়ে উঠেছে।

 

দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের শেকড় কতটা গভীরে প্রোথিত, তা বোঝাতে গিয়ে মাইক হাকাবি অত্যন্ত সরাসরি ভাষায় বলেন, ‘ইসরায়েল ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব থাকত না।’

 

নিজের এই বক্তব্যকে উপস্থিত শ্রোতাদের কাছে আরও বেশি সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন করার উদ্দেশ্যে তিনি দাপ্তরিকভাবে আরও যুক্ত করেন, ‘সেটি ছাড়া কোনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীতে থাকত না। বিষয়টি একেবারেই সহজ এবং অত্যন্ত পরিষ্কার।’

 

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রেক্ষাপট যখন নানা কারণে বেশ সংবেদনশীল, তখন তার এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

 

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি তার বক্তব্যে ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের মধ্যকার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের দৃশ্যমান নানা টানাপোড়েন এবং মতবিরোধের বিষয়টি কোনো ধরনের রাখঢাক ছাড়াই অত্যন্ত অকপটে স্বীকার করে নেন।

 

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে দুই মিত্র দেশের মধ্যে যে কিছুটা দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে, সেটিও তার কথায় উঠে আসে। তবে তিনি অত্যন্ত জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন যে, রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ধরনের সাময়িক মতবিরোধ কিংবা কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দিলেও দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব এবং নিবিড় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সবসময়ই অটুট ও স্থায়ী থাকবে।

 

বক্তব্যের একেবারে শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধি বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি গভীরভাবে বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যকার এই অনন্য এবং কৌশলগত সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে একটি ‘অভেদ্য বন্ধন’ বা ছিন্ন করা যায় না এমন এক সুদৃঢ় সম্পর্ক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

 

তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, যে কোনো বৈরী পরিস্থিতিতেও এই দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া কখনোই দুর্বল হওয়ার নয়। প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই সম্প্রতি এই গুরুত্বপূর্ণ খবরটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে।

 

- মিডল ইস্ট আই