শত্রুভাবাপন্ন এবং অত্যন্ত বৈরী অঞ্চলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পরও মার্কিন সামরিক বাহিনী অত্যন্ত দ্রুতগামী, সুপরিকল্পিত এবং চরম ঝুঁকিপূর্ণ একটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
এই শ্বাসরুদ্ধকর ও জটিল অভিযানের মাধ্যমে ভূপাতিত হওয়া ওই দুই সামরিক সদস্যকে জীবিত অবস্থায় সম্পূর্ণ নিরাপদে উদ্ধার করে নিজেদের ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয় মার্কিন বিশেষ উদ্ধারকারী দল।
তবে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে এর পেছনের মূল কারণ নিয়ে সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, উদ্ধারপ্রাপ্ত পাইলটের সাম্প্রতিক একটি চাঞ্চল্যকর বয়ান সেই রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন মঙ্গলবার (২৩ জুন) মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা সূত্রগুলোর বরাতে একটি অত্যন্ত চমকপ্রদ ও বিস্ময়কর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অত্যাধুনিক ওই এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি আকাশ থেকে ভূপাতিত হওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগে বিমানটির প্রধান পাইলট আকাশে অত্যন্ত অদ্ভুত এবং ব্যাখ্যাতীত একটি ভাসমান বস্তু দেখতে পেয়েছিলেন।
পাইলট মার্কিন সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে নিজের এই রোমহর্ষক ও বিরল অভিজ্ঞতার কথা সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্যমতে, আকাশে ভাসমান ওই বিশাল ও রহস্যময় আকৃতিটি দেখতে অবিকল সামুদ্রিক প্রাণী জেলিফিশের মতো ছিল।
তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এটি কোনো প্রাকৃতিক বস্তু বা মেঘের খণ্ড ছিল না; বরং অসংখ্য ছোট ছোট চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোনের সমন্বয়ে এই বিশাল ও অদ্ভুত আকৃতিটি অত্যন্ত সুকৌশলে তৈরি করা হয়েছিল।
সিএনএনের ওই প্রতিবেদনে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের বরাত দিয়ে পাইলটের ওই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা আরও গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সূত্রটি জানায়, পাইলট তার বর্ণনায় বলেছেন, আকাশে উড্ডয়নরত বেশ কয়েকটি বড় আকারের চালকবিহীন যানের নিচের অংশে অসংখ্য ছোট ছোট আকাশযান একত্রিত হয়ে এমন একটি জটিল কাঠামোর সৃষ্টি করেছিল, যা দেখতে জেলিফিশের লম্বা পায়ের মতো মনে হচ্ছিল এবং এগুলো অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
সামগ্রিক দৃশ্যটি এতোটাই অবাস্তব এবং রহস্যময় ছিল যে, পাইলটের কাছে এটিকে পৃথিবীর বাইরের কোনো ভিনগ্রহের প্রাণী বা মহাজাগতিক অদ্ভুত বস্তু বলে মনে হয়েছিল।
অপর একটি সামরিক সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, পাইলট তার উড্ডয়নকালীন ওই ভীতিকর মুহূর্তটিকে আকাশে ভাসমান একটি ড্রোনের মাইনফিল্ড বা বিস্ফোরক বিছানো মৃত্যুফাঁদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যেখানে যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ছিল।
মার্কিন পাইলটের মুখ থেকে সরাসরি শোনা এই চাঞ্চল্যকর ও অভিনব অভিজ্ঞতার কথা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে রীতিমতো এক বিশাল ঝড়ের সৃষ্টি করেছে।
কীভাবে একটি দেশ নিজেদের আকাশসীমায় ড্রোনের ঝাঁক বা সোয়ার্ম ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন একটি জটিল, নিখুঁত এবং আক্রমণাত্মক জেলিফিশ আকৃতির কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম হলো, তা নিয়ে মার্কিন প্রযুক্তিবিদ ও সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর বিশ্লেষণ ও চুলচেরা পর্যালোচনা চলছে।
গোয়েন্দারা এখনও পর্যন্ত এই অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তিগত ধাঁধার কোনো সুনির্দিষ্ট ও সন্তোষজনক উত্তর খুঁজে বের করতে সক্ষম হননি। তবে সিএনএনের প্রতিবেদনে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, একসঙ্গে অসংখ্য ড্রোনের সমন্বিতভাবে উড়ে আসার এবং নির্দিষ্ট আকৃতি ধারণ করার এই অত্যাধুনিক সোয়ার্ম প্রযুক্তির বিষয়টি যদি সত্যিই শতভাগ প্রমাণিত হয়, তবে এটি তেহরানের সামরিক ও ড্রোন প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য অগ্রগতির একটি বিশাল প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
একই সঙ্গে, এটি প্রতিপক্ষ রাষ্ট্র এবং অত্যাধুনিক পশ্চিমা যুদ্ধবিমানগুলোর জন্য আকাশে এক নতুন ও অত্যন্ত ভয়ানক হুমকির সতর্কবার্তা প্রদান করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওই অত্যাধুনিক ও অত্যন্ত শক্তিশালী এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি ঠিক কী কারণে বা কোন প্রযুক্তির আঘাতে চূড়ান্তভাবে ভূপাতিত হয়েছে, তার সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত কারণ এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনাটির পেছনে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি সরাসরি শত্রুপক্ষের আঘাত রয়েছে, তা নিয়ে এখনো তদন্ত চলমান। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত প্রাথমিক তদন্ত এবং পাইলটের দেওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্যের ভিত্তিতে এটি প্রায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও রহস্যময় ঘটনার পেছনে ওই ড্রোনের ঝাঁক বা চালকবিহীন আকাশযানের সুপরিকল্পিত ফাঁদের একটি বিশাল ও প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।
আধুনিক আকাশযুদ্ধে চালকবিহীন আকাশযানের এমন অভাবনীয় ব্যবহার ভবিষ্যৎ সমরকৌশলকে যে সম্পূর্ণ নতুন একটি রূপ দিতে যাচ্ছে, এই ঘটনাটি তারই একটি সুস্পষ্ট ও জোরালো ইঙ্গিত বহন করছে।