ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, 'অবরোধের বদলে অবরোধ' এবং 'সর্বাত্মক উত্তেজনার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক পদক্ষেপ'-এই দ্বিমুখী নীতির ওপর ভিত্তি করে সোমবার এই ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এই সামরিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় কার্যকর বলে সামরিক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্প্রতি ইয়েমেনে আয়োজিত বিশাল ‘সতর্কতা ও গণজাগরণ’ শীর্ষক মিলিয়ন-মার্চ এবং বিভিন্ন শক্তিশালী উপজাতীয় সমাবেশ থেকে আসা আপামর ইয়েমেনি জনগণের সর্বাত্মক আহ্বানের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সাড়া দিয়েই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সামরিক নেতৃত্ব দাবি করেছে।
ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ দিন ধরে আকাশ, স্থল ও নৌপথে সার্বিক ও অমানবিক অবরোধ আরোপের মাধ্যমে ইয়েমেনের জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা লুণ্ঠন করা হচ্ছে।
এই দীর্ঘমেয়াদি বৈরী আচরণের ফলে দেশটির সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও মানবিক পরিস্থিতি এক অসহনীয় এবং চরম সংকটাপন্ন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চাপিয়ে দেওয়া এই সংকটের মোক্ষম জবাব দিতেই ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী এখন সমুদ্রপথকে বেছে নিয়েছে।
ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, যেকোনো ধরনের চরম পরিস্থিতি ও পাল্টা আঘাত মোকাবিলা করার জন্য তারা সম্পূর্ণ যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
সৌদি আরবের শাসক গোষ্ঠী যদি এই সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় কোনো প্রকার সামরিক দুঃসাহস দেখানোর চেষ্টা করে কিংবা আঞ্চলিক রাজনীতিতে কোনো ভুল হিসাব-নিকাশ করে উত্তেজনার পারদ আরও বৃদ্ধি করতে চায়, তবে ইয়েমেনি বাহিনীও তার সর্বাত্মক, বিধ্বংসী ও কঠোর সামরিক জবাব দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না।
আন্তর্জাতিক লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর এই নিষেধাজ্ঞার গভীর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। ইয়েমেনি সামরিক কমান্ড একই সাথে দেশের সাধারণ জনগণকে যেকোনো মূল্যে সার্বিক গণজাগরণ ও জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখ সমরে নতুন যোদ্ধা পাঠিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে লজিস্টিক ও নৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী তাদের বিবৃতিতে দৃঢ়তার সাথে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, ইয়েমেনের লুণ্ঠিত জাতীয় অধিকার সম্পূর্ণভাবে পুনরুদ্ধার না হওয়া এবং সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই অন্যায় অবরোধ চিরতরে শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আত্মরক্ষামূলক লড়াই ও সামুদ্রিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা অবিরামভাবে চলবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথগুলোতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা ও জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইয়েমেনের এই কঠোর অবস্থানকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা এখন এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।