শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ভয়ে’ আমাদের এড়িয়ে অন্যদের ওপর হামলা চালাচ্ছে ইরান: ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

‘ভয়ে’ আমাদের এড়িয়ে অন্যদের ওপর হামলা চালাচ্ছে ইরান: ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী
ছবি : Collected

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তাদের সামরিক শক্তির ‘ভয়ে’ সরাসরি ইসরায়েলের ওপর হামলা চালানো থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকছে।

 

তার জোরালো দাবি, এই গভীর ভীতির কারণেই ইরান মূলত তাদের সামরিক অভিযানগুলোতে ইসরায়েলকে পাশ কাটিয়ে অন্যান্য দেশের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া হামলা ও পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে তিনি এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। গত কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও চরম অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, মাত্র দুদিন আগেই পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।

 

এই সামরিক উত্তেজনার জেরে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান দূরপাল্লার মিসাইল ও অত্যাধুনিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

 

এই পুরো পরিস্থিতিতে ইসরায়েল নিজেদের সরাসরি সংঘাত থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখলেও, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলার বিষয়ে তারা তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।

 

গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনীর (আইডিএফ) সাথে আয়োজিত একটি বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই আঞ্চলিক সংঘাত, নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি এবং ইরানের সামরিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

 

অন্যান্য দেশের সামরিক স্থাপনায় ইরানের সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইসরায়েলকে এড়িয়ে চলার বিষয়টি কোনোভাবেই আকস্মিক বা কাকতালীয় নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "ইরান যে আমাদের ওপর হামলা করছে না, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়।

 

তারা অত্যন্ত সচেতনভাবেই আমাদের বাদ দিয়ে অন্যদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। কারণ তারা আমাদের সামরিক সক্ষমতা, আমাদের প্রতি আক্রমণের তীব্রতা এবং জাতীয় সুরক্ষার প্রশ্নে আমাদের দৃঢ় সংকল্প সম্পর্কে খুব ভালোভাবে অবগত আছে।"

 

দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ বা ছায়াযুদ্ধ চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে উভয় দেশই একে অপরের কট্টর সমালোচক।

 

তবে নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে দাবি করেছেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি দুর্বল, কোণঠাসা ও ভঙ্গুর অবস্থায় উপনীত হয়েছে। তার মতে, তেহরানের বর্তমান সরকার এখন কেবল নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই মরিয়া হয়ে লড়াই করছে।

 

অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং বাহ্যিক নানা কূটনৈতিক চাপের কারণে ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব অনেকটাই নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই স্পর্শকাতর প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের চূড়ান্ত কৌশলগত লক্ষ্যের কথাও স্পষ্ট করেছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

 

তিনি প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেন, ইরানের বর্তমান সরকার কাঠামোর পতন ঘটানোই এখন ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য এবং তারা এই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে তিনি বলেন, "আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমরা এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের বিষয়টি একেবারে সম্পূর্ণভাবে শেষ করতে পারব।

 

অন্যভাবে বলতে গেলে, আমাদের সামনে এখন প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের বর্তমান সরকারের পতন ঘটানো। আমরা এই লক্ষ্যের একেবারেই দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছি।" নেতানিয়াহুর এই সুনির্দিষ্ট বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং যেকোনো সময় বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা বিরাজ করছে।

 

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো অসম্ভব কোনো বিষয় নয় বলে নেতানিয়াহু যে প্রকাশ্য দাবি করেছেন, তা আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে। তিনি তার বক্তব্যের উপসংহারে দৃঢ়তার সাথে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরানের বর্তমান সরকারের পতন ঘটানো অসম্ভব কিছু নয়, বরং এটি বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্পূর্ণভাবেই সম্ভব।

 

- টাইমস অব ইসরায়েল