শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুত ইরানের সেনাবাহিনী

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুত ইরানের সেনাবাহিনী
ছবি : Collected

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় যেকোনো সম্ভাব্য সামরিক বা কৌশলগত হুমকি মোকাবিলা করতে দেশের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর স্থলভাগের শীর্ষ অধিনায়ক।

 

জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শত্রুর যেকোনো আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক ও সমুচিত জবাব দিতে ইরানের স্থলবাহিনীর প্রতিটি সামরিক শাখা বর্তমানে দেশের সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় মোতায়েন রয়েছে।

 

যেকোনো রণক্ষেত্রে বা স্থানে যখনই প্রয়োজন হবে, মাতৃভূমির স্বার্থ রক্ষায় সেনাবাহিনী তাদের পূর্ণ শক্তি ও আধুনিক সমরাস্ত্র নিয়ে হাজির হবে বলে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি এক কঠোর বার্তা প্রদান করেছেন।

 

বৃহস্পতিবার পশ্চিম ইরানে অবস্থিত সেনাবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সামরিক ঘাঁটি ৩৫তম বিশেষ বাহিনী বা স্পেশাল ফোর্সেস ব্রিগেড পরিদর্শনের সময় ইরানের স্থলবাহিনীর অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী জাহানশাহী এসব কথা বলেন।

 

দেশের অভ্যন্তরীণ সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরানের সীমান্ত নিরাপত্তার কৌশলগত গুরুত্বের বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

 

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের সীমানাকে নিশ্ছিদ্র ও সুরক্ষিত রাখা পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্য নিজেদের জীবন বাজি রেখে অত্যন্ত পেশাদারির সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

সেনাবাহিনীর নিয়মিত ও কৌশলগত পরিদর্শনের অংশ হিসেবে এই বিশেষ সফরে গিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহানশাহী উপস্থিত সেনাসদস্যদের যুদ্ধপ্রস্তুতি, কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা এবং সার্বিক রসদ সহায়তা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

 

দীর্ঘ পরিদর্শন শেষে সেনা সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ নির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পবিত্র ভূমিকে শত্রুর যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত আগ্রাসন, গোপন অনুপ্রবেশ ও আকস্মিক স্থল আক্রমণ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে স্থলবাহিনীর প্রতিটি সেনাদলকে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত সমরাস্ত্র ও কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে।

 

তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, ইরানের বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক কাঠামো এখন এমন এক সুদৃঢ় ও অপ্রতিরোধ্য অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রতিহত করার পূর্ণ সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

 

দেশের বিশাল সীমান্ত রক্ষা করা কেবল একটি দায়িত্বই নয়, বরং এটিকে তিনি স্থলবাহিনীর অন্যতম মৌলিক, পবিত্র এবং স্থায়ী কর্তব্য বলে অভিহিত করেছেন। স্থলবাহিনীর এই শীর্ষ সেনাকর্মকর্তার মতে, দেশের বিস্তীর্ণ ও দুর্গম সীমান্ত এলাকাগুলোতে সশস্ত্র বাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী, সুশৃঙ্খল এবং সদাজাগ্রত উপস্থিতি সাধারণ জনগণের মনে নিরাপত্তা ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির গভীর অনুভূতি নিশ্চিত করে।

 

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরানের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর এই সতর্ক উপস্থিতির কোনো বিকল্প নেই। সামরিক বাহিনীর এই নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধপ্রস্তুতি এবং যেকোনো মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত থাকার অদম্য মানসিকতাকে তিনি দেশের অস্তিত্ব রক্ষার এক অনস্বীকার্য প্রয়োজন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

 

তাঁর মতে, সামরিক বাহিনীর এই দৃশ্যমান শক্তি ও নিরন্তর সতর্কতাই মূলত শত্রুদের মনে ভীতি সঞ্চার করে এবং তাদের যেকোনো অশুভ বা আগ্রাসী উদ্দেশ্য অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

 

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী জাহানশাহী অত্যন্ত আবেগঘন ও শ্রদ্ধাবনত চিত্তে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সুরক্ষায় আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের স্মরণ করেন। তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, আজকের আধুনিক ও শক্তিশালী ইসলামি ইরান যে অটুট নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে বিপুল রাজনৈতিক ও সামরিক কর্তৃত্ব উপভোগ করছে, তার সবটুকুই সেইসব অকুতোভয় শহীদদের পবিত্র রক্ত এবং বীর যোদ্ধাদের চরম আত্মত্যাগের কাছে চিরঋণী।

 

ইতিহাসের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও সংকটময় মুহূর্তে যখনই মাতৃভূমির ডাক এসেছে, দেশের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে এই বীর সন্তানেরা নিজেদের বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে শত্রুর রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।

 

নিজেদের মহামূল্যবান জীবন হাসিমুখে উৎসর্গ করে তাঁরা কেবল দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতাই রক্ষা করেননি, বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় মর্যাদাকেও বিশ্বদরবারে সমুন্নত রেখেছেন।

 

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়ে এই অভিজ্ঞ সেনা কর্মকর্তা বলেন, বীর শহীদদের রেখে যাওয়া এই অমূল্য ও গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যকে যেকোনো মূল্যে সংরক্ষণ করা বর্তমান প্রজন্মের পবিত্র ও নৈতিক দায়িত্ব।

 

মাতৃভূমির সুরক্ষায় চরম ত্যাগ এবং শাহাদাতের যে মহান ও অনুকরণীয় সংস্কৃতি তাঁরা যুগে যুগে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, তা আগামী প্রজন্মের সামরিক ও বেসামরিক নাগরিকদের মাঝে অত্যন্ত সযত্নে ছড়িয়ে দিতে হবে।

 

দেশের প্রতি এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই ভবিষ্যৎ ইরানকে বিশ্বের বুকে আরও বেশি পরাক্রমশালী, আত্মনির্ভরশীল ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করবে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

- পার্সটুডে