শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র রোধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান অভিন্ন - নেতানিয়াহু

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র রোধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান অভিন্ন - নেতানিয়াহু
ছবি : Collected

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে ইরান ইস্যুতে নিজেদের অভিন্ন ও অনড় অবস্থানের কথা আবারও বিশ্ববাসীর সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

 

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের যেকোনো প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করতে এই দুই মিত্র রাষ্ট্র যে একই সমীকরণে কাজ করছে, তা নতুন করে নিশ্চিত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

 

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নানামুখী মেরুকরণ চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত শীর্ষ পর্যায়ের এই আলোচনা ভবিষ্যতের বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এই দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা দেন।

 

গত মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হোয়াইট হাউসে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় নব্বই মিনিট ধরে চলা এই দীর্ঘ ও নিবিড় আলোচনায় উভয় দেশের উচ্চপদস্থ সামরিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

বৈঠক শেষে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের সামনে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই আলোচনাকে ‘অত্যন্ত সফল’ এবং ফলপ্রসূ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরকারের মধ্যকার ‘পূর্ণ অংশীদারত্ব’ এবং ‘পারস্পরিক সমর্থনের’ই এক উজ্জ্বল ও অকাট্য প্রতিফলন।

 

দুই দেশের মধ্যে যে মজবুত ও অবিচ্ছেদ্য কৌশলগত সম্পর্ক বিদ্যমান, তা এই আলোচনার মধ্য দিয়ে আরও একবার সুদৃঢ় হলো বলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এই শীর্ষ বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির ক্রমবর্ধমান প্রভাব।

 

ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা কেবল ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্যই নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য এক চরম ও ভয়াবহ হুমকি।

 

নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তেহরান যেন কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক সক্ষমতা বা গণবিধ্বংসী অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান ইসরায়েলি ও মার্কিন প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

 

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে উভয় দেশ তাদের সামরিক, গোয়েন্দা এবং কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে সর্বোচ্চ সমন্বয় সাধন করে কাজ চালিয়ে যাবে। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের এই সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ওয়াশিংটন ও তেল আবিব যে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নয়, তা এই বৈঠকের মূল সুর থেকে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।

 

শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই নয়, হোয়াইট হাউসের এই নিভৃত আলোচনায় ইসরায়েলের সার্বিক জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ সামরিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিশদ মতবিনিময় হয়েছে।

 

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের যেকোনো সামরিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থন ও সহযোগিতা যে অব্যাহত থাকবে, তা এই আলোচনায় পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

উভয় দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠন এবং সেখানে তেহরানের প্রভাব খর্ব করার জন্য একটি যৌথ ও সমন্বিত রূপরেখা নিয়ে কাজ করার বিষয়েও ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। এই কৌশলগত সমন্বয় আগামী দিনগুলোতে ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামরিক দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার ব্যক্তিগত রসায়ন ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বরাবরই একটি আলোচিত বিষয়। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দুই দেশের মধ্যকার মিত্রতা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।

 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই নতুন মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর দুই বিশ্বনেতার মধ্যে এটি ছিল অষ্টম সরাসরি বা সামনাসামনি সাক্ষাৎকার। এত অল্প সময়ের মধ্যে শীর্ষ নেতাদের এতবার মিলিত হওয়া প্রমাণ করে যে, বিশ্ব রাজনীতির এই জটিল সমীকরণে তারা একে অপরকে কতটা অপরিহার্য বলে মনে করছেন।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই অভিন্ন অবস্থান এবং যৌথ পদক্ষেপ আগামী দিনে আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে এক সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিস্তার করতে চলেছে।

 

- আনাদোলু এজেন্সি