শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিস্তারের তীব্র আশঙ্কায় জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিস্তারের তীব্র আশঙ্কায় জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং সৌদি আরবকে কেন্দ্র করে বিপজ্জনকভাবে ছড়িয়ে পড়া সামরিক উত্তেজনা নিয়ে অত্যন্ত গভীর ও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

 

বিশ্ব রাজনীতির অত্যন্ত সংবেদনশীল এই অঞ্চলটিতে যেভাবে একের পর এক সামরিক আক্রমণ এবং পাল্টাধাওয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা সামগ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে এক অভূতপূর্ব হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

 

বিশ্বসংস্থার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে মহাসচিব অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেছেন যে, সংঘাতের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত পক্ষগুলো যদি অবিলম্বে পারস্পরিক সামরিক বৈরিতা পরিহার করে গঠনমূলক আলোচনার টেবিলে ফিরে না আসে, তবে এই সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

 

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত একটি নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বসংস্থার আনুষ্ঠানিক অবস্থান ব্যাখ্যা করার সময় জাতিসংঘের প্রধান মুখপাত্র ফারহান হক এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও উদ্বেগের কথা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।

 

ফারহান হক জানান, জাতিসংঘের মহাসচিব গত বেশ কিছুদিন ধরে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ধারাবাহিকভাবে এই আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন যে, যখনই দুটি দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার স্বাভাবিক পথ বন্ধ বা অবরুদ্ধ হয়ে যায়, তখনই সংঘাতের বহুমাত্রিক বিস্তার ঘটার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়।

 

বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের অতি সাম্প্রতিক সংঘাতময় ঘটনাপ্রবাহ, সামরিক পদক্ষেপ এবং পাল্টাপাল্টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ মহাসচিবের সেই পূর্বানুমিত আশঙ্কাকেই নতুন করে সত্য ও বাস্তব প্রমাণিত করছে।

 

জাতিসংঘের এই মুখপাত্র আরও বিশদভাবে অবহিত করেন যে, অঞ্চলজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজা, বিপজ্জনক সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া এবং একটি দেশের সংকট পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার এই অস্থিতিশীল প্রবণতা বিশ্ব সংস্থাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।

 

আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে আন্তোনিও গুতেরেস অত্যন্ত জোর দিয়ে সবকটি যুদ্ধরত ও প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষকে অনতিবিলম্বে সকল প্রকার সামরিক তৎপরতা এবং সশস্ত্র আক্রমণ স্থগিত করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

 

তিনি বিশ্বাস করেন যে, কেবল সামরিক বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কোনো দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আন্তরিক কূটনৈতিক আলোচনা।

 

বর্তমান এই চরম অস্থিতিশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে যে কিছু ইতিবাচক প্রচেষ্টা চলছে, সেটিকে জাতিসংঘ ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে।

 

বিশেষ করে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশ কাতারসহ কয়েকটি বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে যে অব্যাহত মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

 

জাতিসংঘ মনে করে যে, এই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সমন্বিত রাজনৈতিক মধ্যস্থতা কেবল সংঘাতের তীব্রতা কমাবে না, বরং থমকে যাওয়া কূটনৈতিক আলোচনাকে পুনরায় সচল করতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।

 

গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার প্রত্যক্ষ সামরিক বিরোধ এক নজিরবিহীন উত্তেজনাকর পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে অবস্থিত একাধিক কৌশলগত ও সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের বিমান হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে।

 

এই অভিযানের সরাসরি জবাবে ইরানও অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, নজরদারি কেন্দ্র এবং সামরিক সরঞ্জামকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী পাল্টাধাওয়া ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করে।

 

দুটি প্রভাবশালী শক্তির মধ্যে এই সরাসরি সামরিক সংঘাতের ফলে পুরো পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে, যা কেবল মধ্যপ্রাচ্যকেই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিশ্ব অর্থনীতিকেও চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দিতে পারে। তাই জাতিসংঘ অনতিবিলম্বে সকল সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছে।

 

- আনাদোলু এজেন্সি