শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন ঘাঁটি অপসারণ না করলে ধ্বংসাত্মক জবাবের হুঁশিয়ারি দিল ইরান!

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

মার্কিন ঘাঁটি অপসারণ না করলে ধ্বংসাত্মক জবাবের হুঁশিয়ারি দিল ইরান!
ছবি : Collected

মধ্যপ্রাচ্যের যেসব আরব দেশ নিজেদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দিয়েছে, তাদের প্রতি এবার অত্যন্ত কঠোর ও চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি।

 

আঞ্চলিক নিরাপত্তার চরম অবনতি ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ যখন ঊর্ধ্বমুখী, ঠিক সেই মুহূর্তে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আরব দেশগুলোকে অবিলম্বে তাদের নিজ নিজ ভূখণ্ড থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও তাদের যাবতীয় সরঞ্জাম বিতাড়িত করতে হবে।

 

অন্যথায়, যদি এসব ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর বিন্দুমাত্র আঘাত হানা হয়, তবে তার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে এক ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহলে ইরানের এই কড়া বার্তা ইতোমধ্যেই গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

 

বুধবার এক বিশেষ বিবৃতিতে আইআরজিসির রাজনৈতিক বিষয়ক ডেপুটি জেনারেল যাদুল্লাহ জাভানি এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর দাবিটি উত্থাপন করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আরব রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, তাদের উচিত দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমেরিকানদের নিজ দেশ থেকে বের করে দেওয়া এবং সেই সঙ্গে সামরিক ঘাঁটিগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফিরিয়ে নেওয়া।

 

আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনার নীতির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিদেশি সামরিক উপস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো পরোক্ষভাবে পশ্চিমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়ছে, যা এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রধান অন্তরায়।

 

যাদুল্লাহ জাভানি তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, আমেরিকানদের তাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া এবং নিজস্ব ঘাঁটিগুলোর অধিকার ফেরত নেওয়াই হবে আরব দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে উত্তম ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।

 

ইরানের এই উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা কেবল সাধারণ সতর্কবার্তাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং নির্দিষ্টভাবে কয়েকটি প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশের নাম উল্লেখ করে সামরিক পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

 

তিনি অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সতর্ক করে জানান যে, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান কিংবা অন্য যেকোনো আরব দেশের সীমানা, আকাশসীমা বা সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করে যদি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর কোনো ধরনের আগ্রাসন বা সামরিক হামলা চালানো হয়, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মোটেই নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকবে না।

 

বরং, সেই হামলার উৎস এবং তা পরিচালনায় সহায়তাকারী প্রতিটি রাষ্ট্রকে ইরানের তরফ থেকে চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে। এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এল, যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিভিন্ন ফ্রন্টে প্রক্সি যুদ্ধ ও সরাসরি সংঘাতের এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই হুঁশিয়ারি নিছক কোনো ফাঁকা বুলি নয়, বরং এটি তাদের দীর্ঘদিনের সামরিক কৌশল ও আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখার বৃহত্তর পরিকল্পনারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘদিন ধরেই ইরান অভিযোগ করে আসছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক উপস্থিতি এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা, যুদ্ধ এবং বিভাজন সৃষ্টির মূল কারণ।

 

ইরাক, সিরিয়া এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতির তীব্র বিরোধিতা করে আসা ইরান এবার তাদের প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপরও পরোক্ষ চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছে।

 

বিশেষ করে যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিবিড় সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে, তাদের মাধ্যমে যাতে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেই নিশ্চয়তা আদায় করতেই এমন কঠোর ভাষার প্রয়োগ করা হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

 

সব মিলিয়ে আইআরজিসির এই বিবৃতি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক মোড়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। একদিকে আরব দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সামরিক চুক্তি ও কৌশলগত বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে প্রতিবেশী পরাশক্তি ইরানের এই প্রকাশ্য হুমকি-উভয় সংকটই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে এক চরম কূটনৈতিক ও সামরিক উভয়সংকটে ফেলে দিয়েছে।

 

আগামী দিনগুলোতে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ এবং আরব-ইরান সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই গভীর মনোযোগের সঙ্গে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছে গোটা বিশ্ব।

 

- মিডল ইস্ট ইরান