সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের উদ্যমী তরুণ ও প্রতিরক্ষাবাহিনীর দৃঢ়তার মুখে কোনো শত্রুই দাঁড়াতে পারবে না

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১১ পিএম

ইরানের উদ্যমী তরুণ ও প্রতিরক্ষাবাহিনীর দৃঢ়তার মুখে কোনো শত্রুই দাঁড়াতে পারবে না
ছবি : Collected

ইরানের বিশ্বাসী, উদ্যমী এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তরুণ প্রজন্মের অদম্য শক্তির সামনে কোনো শত্রুই টিকে থাকতে পারবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা। ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনীর সমন্বয় বিষয়ক উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়্যেরি এক সামরিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই বার্তা তুলে ধরেন।

 

তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামি বিপ্লব পরবর্তী দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের সাধারণ জনগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে বিদেশি শক্তির নানামুখী চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হুমকির বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

 

দেশমাতৃকার প্রতিরক্ষায় তরুণ সমাজের নিখাদ দেশপ্রেম, আত্মবিশ্বাস ও নৈতিক দৃঢ়তাই বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। রাজধানী তেহরানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রিয়ার অ্যাডমিরাল সাইয়্যেরি বলেন, প্রতিকূল ও বৈরী শক্তিগুলোর জন্য এটি খুব স্পষ্টভাবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, তারা যদি কখনো ইরানি যোদ্ধাদের সঙ্গে সম্মুখ সমরে লিপ্ত হওয়ার ধৃষ্টতা দেখায়, তবে তাদের চরম শোচনীয় পরিণতি বরণ করতে হবে।

 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো ধরনের প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য আগ্রাসনের মুখে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা অক্ষুণ্ণ রাখতে ইরানের এই উদ্যমী ও প্রতিশ্রুতিশীল যুবসমাজ যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে সদা প্রস্তুত রয়েছে।

 

তাঁর মতে, সামরিক সমরাস্ত্রের চেয়েও আদর্শিক চেতনা ও দেশপ্রেমের আত্মিক শক্তি অনেক বেশি কার্যকর, যা ইরানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক অপরাজেয় শক্তির মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।

 

মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান নানামুখী উত্তেজনা ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে এই জ্যেষ্ঠ সামরিক ব্যক্তিত্ব জানান, আধিপত্যকামী কোনো পরাশক্তিই চায় না ইরান একটি আত্মমর্যাদাশীল, আধুনিক ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।

 

ইসলামি বিপ্লবের সূচনা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজ্ঞান, মহাকাশ গবেষণা, আধুনিক চিকিৎসা এবং নিজস্ব প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে ইরানি বিজ্ঞানীরা যে অবিস্মরণীয় সফলতা অর্জন করেছেন, তা মূলত শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

ফলে তারা প্রত্যক্ষ সংঘাত ছাড়াও রাজনৈতিক অপপ্রচার, মনস্তাত্ত্বিক চাপ এবং অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের মাধ্যমে ইরানের এসব জাতীয় সক্ষমতা বিনষ্ট কিংবা নিষ্ক্রিয় করার জন্য একের পর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

 

রিয়ার অ্যাডমিরাল সাইয়্যেরি তাঁর ভাষণে আরও উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছরে নিজেদের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে ইরানি জাতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা কোনো ধার করা শক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়।

 

তিনি বলেন, বিদেশি অপশক্তিগুলো ইরানের এই অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রাকে কোনোভাবেই সহ্য করতে পারছে না বলেই বিভিন্ন কূটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। শত্রুপক্ষ বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এবং সমাজকে বিভক্ত করে জাতীয় ঐক্যে ফাটল ধরাতে চাইলেও ইরানিদের পারস্পরিক সংহতি ও দৃঢ় মনোবল তাদের সেই অপচেষ্টাকে বারবার প্রতিহত করেছে।

 

কোনো ধরনের হুমকি কিংবা কৃত্রিম সংকটের মুখে মাথা নত করার জাতি ইরান নয় বলেই তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্মরণ করিয়ে দেন। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আশির দশকের রক্তক্ষয়ী ইরান-ইরাক যুদ্ধ তথা ইরানের জাতীয় ইতিহাসে ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধ’ হিসেবে খ্যাত সংঘাতের স্মৃতি তুলে ধরেন দেশটির সাবেক এই নৌবাহিনী প্রধান।

 

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ইরানি সামরিক বাহিনী কোনো অলস বসে থাকা শক্তি নয়, বরং তারা হচ্ছে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতায় পরীক্ষিত মানুষ। তৎকালীন আট বছরের দীর্ঘ প্রতিরোধ যুদ্ধে যেভাবে আন্তর্জাতিক সমর্থনপুষ্ট আগ্রাসী শক্তিকে একবিন্দু ছাড় না দিয়ে পরাজিত করা হয়েছিল, আজও ঠিক একই তেজ ও উদ্দীপনা নিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ম রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী সদা প্রস্তুত রয়েছে।

 

তৎকালীন সেই কঠিন পরিস্থিতির মতোই বর্তমান সময়েও যেকোনো বৈরী শক্তির অপতৎপরতা রুখে দিতে ইরানি সামরিক কাঠামো সর্বাত্মক রণপ্রস্তুতি বজায় রেখেছে। বক্তব্যের সমাপ্তিতে রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়্যেরি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার এই উদ্যমী তরুণদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই ইরান তার চূড়ান্ত উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা ও নিরাপত্তার লক্ষ্য অর্জন করবে।

 

শত্রুপক্ষের ভিত্তিহীন হুমকি-ধমকিতে বিচলিত না হয়ে জাতীয় সংহতি ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আকাশ, স্থলভাগ এবং জলসীমা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিকতর তৎপর এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সর্বদা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

 

- পার্সটুডে