বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে রহস্যজনক বস্তুর আঘাত, দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের ক্ষতি

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে রহস্যজনক বস্তুর আঘাত, দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের ক্ষতি
ছবি : Al Jazeera

বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ধমনী ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে সুপরিচিত হরমুজ প্রণালিতে ফের এক রহস্যজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার এই অত্যন্ত সংবেদনশীল সামুদ্রিক পথে চলাচলরত দুটি পৃথক বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্রের জোরালো আঘাত হেনেছে।

 

যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা বা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও)-এর আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই চরম উদ্বেগজনক খবরটি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে।

 

এই আকস্মিক ও অভাবনীয় হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে সংঘটিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনিতেই চরম সামরিক উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বিশ্ববাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে এক গভীর শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।

 

ইউকেএমটিও-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন ও নির্ভরযোগ্য সামুদ্রিক সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে, প্রথম ঘটনাটি ঘটে যখন একটি সুবিশাল পণ্যবাহী বা কনটেইনারবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করছিল।

 

ওই নির্দিষ্ট জাহাজটির ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় পঞ্চাশ হাজার টন, যা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ও বৃহৎ আকার হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রণালির নির্দিষ্ট জলসীমায় প্রবেশের পরপরই কোনো এক অজানা দিক থেকে তীব্র বেগে ধেয়ে আসা একটি রহস্যজনক বস্তু অত্যন্ত দ্রুতগতিতে জাহাজটিতে সজোরে আঘাত হানে।

 

আকস্মিক এই হামলায় জাহাজটির বাহ্যিক ও কাঠামোগত কিছু ক্ষতি সাধিত হলেও, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য পরম স্বস্তির বিষয় হলো যে জাহাজে অবস্থানরত কোনো সাধারণ নাবিক বা ক্রু সদস্য বিন্দুমাত্র হতাহত হননি।

 

প্রাথমিক ধাক্কা ও ভীতি সামলে ওঠার পর জাহাজের নাবিকদল অত্যন্ত সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন এবং কোনো ধরনের অযাচিত বিলম্ব না করে জাহাজটি তার পূর্বনির্ধারিত গন্তব্যের দিকে নিজস্ব শক্তিতে যাত্রা অব্যাহত রাখে।

 

প্রথম ঘটনার রেশ ও আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই একই প্রণালির খুব কাছাকাছি স্থানে দ্বিতীয় হামলার ঘটনাটি ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি ঘোলাটে করে তোলে। এবার অজ্ঞাত হামলাকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় হরমুজ প্রণালি থেকে সফলভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পথে থাকা সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেকটি পণ্যবাহী জাহাজ।

 

এই দ্বিতীয় কনটেইনারবাহী জাহাজটির ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় উনিশ হাজার টন। সমুদ্রপথে নিজেদের নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে শান্তভাবে এগিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই আরেকটি অজ্ঞাত বস্তু আকাশ বা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ছুটে এসে এই জাহাজটিতেও আঘাত হানে।

 

প্রথম ঘটনার অবিকল পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে এই ক্ষেত্রেও জাহাজটির বাইরের অংশে সামান্য কিছু ক্ষয়ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়। তবে অত্যন্ত সৌভাগ্যবশত, এই জাহাজেরও কোনো বেসামরিক নাবিক বা নিরপরাধ কর্মী বিন্দুমাত্র আহত হননি।

 

হামলার পরপরই জাহাজের ক্যাপ্টেন ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজের সামগ্রিক অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত করেন যে জাহাজটি সমুদ্রে চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত। এরপর বাইরের কোনো প্রকার সাহায্য বা উদ্ধারকারী দলের অপেক্ষা ছাড়াই জাহাজটি তার গন্তব্যের দিকে পুনরায় যাত্রা শুরু করে।

 

এই দুটি পৃথক ও চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সবচেয়ে বড় রহস্য ও গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল হামলাকারী এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের প্রকৃত পরিচয়। বেসামরিক জাহাজে আঘাত হানা ওই বস্তুগুলো আদতে কোনো অত্যাধুনিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, নাকি বিস্ফোরকভর্তি দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোন বা সম্পূর্ণ অন্য কোনো আধুনিক মারণাস্ত্র-তা এখনও নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

 

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পর্যবেক্ষক, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই জোড়া হামলার ধরন, গতিপথ ও প্রকৃতি নিয়ে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্র, আঞ্চলিক সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী বা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন প্রকাশ্যে এই জোড়া হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

 

দায় স্বীকারের এই অদ্ভুত অনুপস্থিতি পুরো ঘটনাটিকে এক গভীর ও রহস্যময় কুয়াশার চাদরে ঢেকে দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে এক অত্যন্ত জটিল ও অমীমাংসিত সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

 

এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলোর ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট বা হরমুজ প্রণালির কৌশলগত অবস্থানটি বিশ্ব অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য আক্ষরিক অর্থেই অপরিহার্য। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই অপেক্ষাকৃত সংকীর্ণ জলপথটি মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রাণভোমরা হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে আসছে।

 

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের মোট সমুদ্রবাহিত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বিশাল অংশ প্রতিদিন এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

 

এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার বিশাল শিল্প খাত ও দৈনন্দিন পরিবহন ব্যবস্থা এই প্রণালির ওপর মারাত্মকভাবে নির্ভরশীল। সুতরাং, এই জলপথে সামান্যতম নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বা জাহাজ চলাচলে অচলাবস্থা তৈরি হলে তা মুহূর্তের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক ও ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও এক নতুন অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে তোলে।

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভূরাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে এ ধরনের হামলার ঘটনা ইতিহাসে একেবারেই নতুন কিছু নয়। বিগত কয়েক দশক ধরেই এই অঞ্চলটি এক ধরণের প্রক্সি বা ছায়াযুদ্ধ এবং সামরিক উত্তেজনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

 

আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্ব, পশ্চিমা বিশ্বের সাথে পারমাণবিক ও কূটনৈতিক রেষারেষি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অংশে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঢেউ বারবার এই জলপথের শান্ত পরিবেশকে চরমভাবে বিঘ্নিত করেছে।

 

যদিও মঙ্গলবারের এই জোড়া হামলার সাথে আঞ্চলিক কোনো নির্দিষ্ট উত্তেজনার সরাসরি যোগসূত্র এখনও সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি, তবে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনাকারী বহুজাতিক সংস্থাগুলো অত্যন্ত সতর্ক ও সন্দিহান দৃষ্টি রাখছে।

 

একটি স্বাধীন, ভয়হীন ও সম্পূর্ণ নিরাপদ সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বর্তমান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এখন অন্যতম প্রধান ও জরুরি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে।

 

যখনই কোনো আন্তর্জাতিক নৌপথে এমন অভাবনীয় হামলার ঘটনা ঘটে, তখনই বৈশ্বিক সামুদ্রিক বিমা বা মেরিটাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য তাদের বিমার প্রিমিয়াম বা যুদ্ধকালীন ঝুঁকি ভাতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

 

এর ফলে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের ব্যয় বা ফ্রেট রেট স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির এই সরাসরি ও মর্মান্তিক প্রভাব গিয়ে পড়ে বিশ্বের সাধারণ ভোক্তাদের ওপর, কারণ আমদানিকৃত প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তখন স্থানীয় বাজারে হু হু করে বেড়ে যায়।

 

এছাড়া অনেক আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি সাময়িক সময়ের জন্য নিজেদের মহামূল্যবান জাহাজ ও কর্মীদের সুরক্ষার্থে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে বিকল্প ও দীর্ঘ পথে জাহাজ পরিচালনার কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহের শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং বিশ্ববাণিজ্যে এক অনাকাঙ্ক্ষিত স্থবিরতা নেমে আসে।

 

বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত সাধারণ নাবিকদের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি এই ধরনের হামলায় সবসময়ই সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত ও আড়ালে থেকে যায়। মাসের পর মাস পরিবার ও আপনজনদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে এই নাবিকরা যখন আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং পেশায় নিয়োজিত থাকেন, তখন এ ধরনের আকস্মিক হামলা তাদের ওপর এক গভীর ও স্থায়ী মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে।

 

একটি শান্ত সমুদ্র যখন চোখের পলকে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়, তখন জাহাজের নিরস্ত্র ক্রুদের যে মানসিক ট্রমা বা ভীতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা সত্যিই বর্ণনাতীত। যদিও মঙ্গলবারের এই দুটি ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা রক্তপাতের ঘটনা ঘটেনি, তবে মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসার এই রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে নাবিকদের এই নির্দিষ্ট রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে মানসিকভাবে চরম নিরুৎসাহিত করতে পারে।

 

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংগঠনগুলো বারবার এই যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আসছে যে, নাবিকদের জীবনের পূর্ণ নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা বিধান করা ছাড়া কোনোভাবেই নিরবচ্ছিন্ন ও মসৃণ বিশ্ববাণিজ্য পরিচালনা করা কোনোদিনও সম্ভব নয়।

 

আন্তর্জাতিক আইন এবং সামুদ্রিক কনভেনশনের কঠোর দৃষ্টিকোণ থেকেও এই ধরনের আক্রমণ অত্যন্ত গর্হিত ও ক্ষমার অযোগ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক ঐতিহাসিক কনভেনশন বা আনক্লস অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী যেকোনো দেশের বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজের সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরাপদ চলাচলের নিরঙ্কুশ অধিকার রয়েছে, যা সামুদ্রিক আইনে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে স্বীকৃত।

 

এই সর্বজনীন আইনের চরম লঙ্ঘন করে বেসামরিক ও নিরস্ত্র পণ্যবাহী জাহাজের ওপর এহেন কাপুরুষোচিত আক্রমণ কেবল একটি নির্দিষ্ট দেশ বা কোম্পানির বিরুদ্ধে নয়, বরং সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রীতিনীতি ও আইনের শাসনের প্রতি এক প্রত্যক্ষ ও নগ্ন চপেটাঘাত।

 

এর ফলে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ফোরামগুলোতে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার একটি অতি দ্রুত ও সুষ্ঠু আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। উদ্ভূত এই চরম উদ্বেগজনক ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (ইউকেএমটিও) একটি বিশেষ জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।

 

ওই অঞ্চলে চলাচলরত বিশ্বের প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজকে সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে তা নিকটস্থ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

 

এর পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোটগুলো হরমুজ প্রণালি ও এর আশেপাশের জলসীমায় তাদের নিয়মিত টহল, নজরদারি ও আকাশপথে টহলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। পরিশেষে বলা যায়, মঙ্গলবারের এই জোড়া হামলার ঘটনা বিশ্ববাসীর জন্য একটি নতুন ও অত্যন্ত কঠোর সতর্কবার্তা।

 

কে বা কারা এই হামলার নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে এবং তাদের প্রকৃত হীন উদ্দেশ্যই বা কী-সেই অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির আকাশ থেকে আতঙ্কের এই কালো মেঘ কোনোভাবেই সরে যাচ্ছে না।

 

- আল জাজিরা