এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় সুইদা প্রদেশের চলমান সহিংসতা। প্রদেশটি মূলত দ্রুজ অধ্যুষিত এবং জর্ডান ও ইসরায়েল সীমান্তের কাছে অবস্থিত হওয়ায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েকদিন ধরে সেখানে স্থানীয় দ্রুজ যোদ্ধা, বেদুইন উপজাতি এবং সিরিয়ার সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস-এর মতে, এই সংঘাতে এ পর্যন্ত $250$ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
সহিংসতা শুরু হয় দ্রুজ যোদ্ধা এবং স্থানীয় বেদুইন উপজাতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অপহরণ ও হামলার মধ্য দিয়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি বাহিনী হস্তক্ষেপ করলে দ্রুজ গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়। ইসরায়েলের দাবি, সরকারি বাহিনী দ্রুজ বেসামরিকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং তাদের রক্ষা করতেই এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তবে সিরিয়ার অনেক দ্রুজ নেতাই তাদের পক্ষে ইসরায়েলি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।
বুধবারের হামলায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দামেস্কের আকাশে চক্কর দেয়, যা রাজধানীতে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কম্পাউন্ডে একাধিকবার হামলা চালানো হয়, যার ফলে ভবনটির কাঠামোগত ক্ষতি হয় এবং শহরজুড়ে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েল সামাজিক মাধ্যমে জানায়, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিকটবর্তী একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর সিরিয়ার নতুন ও দুর্বল সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে ইসরায়েল। তারা একটি শক্তিশালী সিরিয়ার পরিবর্তে একটি দুর্বল ও বিভক্ত সিরিয়া দেখতেই বেশি আগ্রহী। ইসরায়েল হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সুইদা থেকে সিরীয় সৈন্য প্রত্যাহার না করা হলে হামলা আরও তীব্র করা হবে। হামলার পরপরই সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুইদাতে একটি নতুন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায় যে, সরকারি সৈন্যরা ওই এলাকা থেকে সরে যেতে শুরু করেছে। সিরিয়া এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে, যার সাথে বেশ কয়েকটি আরব দেশও সহমত প্রকাশ করেছে। এই ঘটনা সিরিয়ার নতুন সরকারের জন্য সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
---