শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় স্বার্থ সুরক্ষায় আস্থা নেই ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৫, ০৭:০৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় স্বার্থ সুরক্ষায় আস্থা নেই ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খতিব বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার মাধ্যমে দেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত করা সম্ভব বলে তেহরান মনে করে না।

বুধবার ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় চাহারমহল ও বখতিয়ারি প্রদেশে এক বৈঠকে খতিব বলেন, "আমেরিকার সাথে এমন কোনো আলোচনায় আমাদের আস্থা নেই, যা আমাদের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত করার দাবি করে।" খতিবের মতে, ইরানের সঙ্গে আলোচনার যে দাবি ওয়াশিংটন করে, তা "ইরানি জাতির প্রতি তাদের শত্রুতার" একটি আবরণ মাত্র।

 

এই কর্মকর্তা জুনে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থা এবং দেশের অন্যান্য শত্রুদের দ্বারা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং দেশকে বিভক্ত করার ব্যাপক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন।

 

প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি উল্লেখ করেন, এই অহেতুক আগ্রাসনের আগে শত্রুরা বছরের পর বছর ধরে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে, বিশ্বকে ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে এবং জনগণকে দেশের ইসলামি বিপ্লব থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে।

 

মন্ত্রী আরও যোগ করেন, এই আগ্রাসনের সময় শত্রুরা সর্বাধুনিক পশ্চিমা প্রযুক্তি এবং যুদ্ধবিদ্যা ব্যবহার করে একটি ব্যাপক 'সমন্বিত অভিযান' (হাইব্রিড অপারেশন) বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিল।

 

তিনি মন্তব্য করেন, এই যুদ্ধের আগে একাধিক যৌথ মহড়া, বিপ্লববিরোধী উপাদানগুলোকে সংগঠিত করা, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পুনরুজ্জীবিত করা এবং ইরানভীতি ও শিয়াভীতি ছড়ানোর জন্য বিশ্বের গণমাধ্যম ভাণ্ডারকে একত্রিত করা হয়েছিল।

 

এই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, শত্রুরা এমনকি সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে মুক্তি পাওয়া সকল তাকফিরি সন্ত্রাসীকে দেশের দিকে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, ৫০টিরও বেশি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা এই শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল।

 

খতিবের মতে, এই ঘটনাবলী এবং গাজা ও লেবাননের মতো বিশ্বের বিভিন্ন অংশে মার্কিন সমর্থনে ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার চালানো একই ধরনের আগ্রাসন, শত্রুদের তথাকথিত "শক্তির মাধ্যমে শান্তি" প্রতিষ্ঠার দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে।

 

তিনি বলেন, "এই অপরাধীদের 'শক্তির মাধ্যমে শান্তি'র আসল অর্থ এখন পুরো বিশ্ব বুঝতে পেরেছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এই দাবির প্রকৃত অর্থ হলো "অপরাধের মাধ্যমে বশ্যতা স্বীকার করানো।"

 

তবে, খতিব এই 'সমন্বিত যুদ্ধ' (হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার) ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির কৌশলগত প্রজ্ঞা, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সফল প্রতিরক্ষা ও প্রতিশোধমূলক অভিযান এবং দেশের বিভিন্ন স্তরের গভীর ঐক্যের প্রশংসা করেন।