আল-শিফা হাসপাতালের জরুরি ডাক্তার হ্যারিয়েট বলেন, "ব্যাপক গোলাবর্ষণের পর যখন মানুষজন উত্তর গাজায় তাদের পুরোনো বাড়িতে ফিরে আসছে, তারা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিজেদের তাঁবু খাটাচ্ছেন। কিন্তু সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য অবিস্ফোরিত ক্ষেপণাস্ত্র।"
যুদ্ধ শেষ না হলেও বা সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময় নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরে আসা এই বাস্তুচ্যুত মানুষেরা এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন। ড. হ্যারিয়েট জোর দিয়ে বলেন যে, শিশুরাই এই বিস্ফোরকগুলির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ তারা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খেলাধুলা বা অনুসন্ধানের সময় অসাবধানতাবশত এসব বোমার সংস্পর্শে আসছে।
সম্প্রতি তার দল পাঁচ ও সাত বছর বয়সী দুই সহোদরকে চিকিৎসা দিয়েছে, যারা একটি অবিস্ফোরিত বোমা থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণ এবং স্প্লিন্টারের আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। এই ধরনের ঘটনাগুলি গাজার অভ্যন্তরে মানব জীবনের ওপর চলমান ধ্বংসাত্মক প্রভাবের এক হৃদয়বিদারক চিত্র তুলে ধরে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজা ভূখণ্ডে এখনো প্রায় ৬৬,০০০ টন অবিস্ফোরিত যুদ্ধাস্ত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। বিপুল সংখ্যক এই বিস্ফোরক সামগ্রী যে কোনো মুহূর্তে প্রাণঘাতী হতে পারে। তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে এসব অবিস্ফোরিত বোমার আঘাতে অন্তত ৫৩ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও এই বিপুল পরিমাণ অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ গাজায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু করার পথে এক বিরাট প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে এবং মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এবং ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এই বিপুল পরিমাণ অবিস্ফোরিত বোমার উপস্থিতি শিশুদের জন্য তো বটেই, এমনকি ত্রাণকর্মী এবং নির্মাণ শ্রমিকদের জন্যও মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছে। এই পরিস্থিতি যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটিতে জরুরি ভিত্তিতে বিস্ফোরক অপসারণ এবং ঝুঁকি সচেতনতা কর্মসূচি চালু করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি কেবল গৃহহীন হওয়ার বেদনা নয়, বরং নিজেদের বাড়িতে ফিরেও মৃত্যুর আশঙ্কায় দিন কাটানোর এক মর্মান্তিক বাস্তবতা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।