'ইয়েলো লাইন' হলো গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর আংশিক প্রত্যাহারের পর সামরিক বাহিনী কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত এলাকা চিহ্নিতকারী একটি নির্দিষ্ট সীমানা। এই এলাকাটিকে আইডিএফ নিজেদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বলয় হিসেবে বিবেচনা করে।
বুধবার বিকেলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ঘটনা দুটির বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ওই দুই ব্যক্তি দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ঘটনায় মধ্য গাজায় সামরিক বাহিনীর নির্ধারিত এই নিরাপত্তা বেষ্টনী লঙ্ঘন করে। আইডিএফের ভাষ্যমতে, সৈন্যরা প্রথমে ওই ব্যক্তিদের অবৈধভাবে সীমানা অতিক্রম করতে দেখে। সামরিক বাহিনী বলেছে, "ওই কর্মীরা (operatives) এলাকায় মোতায়েন করা বাহিনীর জন্য একটি তাৎক্ষণিক এবং সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করেছিল।"
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "তাদের শনাক্ত করার কিছুক্ষণ পরেই, আমাদের বাহিনী ওই হুমকি অপসারণের জন্য সন্ত্রাসীদের নির্মূল করে।" ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সেনারা ওই এলাকায় একটি নির্দিষ্ট সামরিক কার্যক্রমে নিযুক্ত ছিল। আংশিক সেনা প্রত্যাহারের পর, মধ্য গাজার এই বিভাজন রেখাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এলাকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং এখানে প্রায়শই উত্তেজনা দেখা দেয়।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটলো যখন গাজা উপত্যকায় সামগ্রিক পরিস্থিতি থমথমে। গত বছরের যুদ্ধ এবং পরবর্তী আংশিক সেনা প্রত্যাহারের পর থেকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজার অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট কিছু 'বাফার জোন' বা নিরাপত্তা রেখা কঠোরভাবে বজায় রেখেছে। 'ইয়েলো লাইন' এমনই একটি অঘোষিত সীমানা, যা অতিক্রম করাকে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নিরাপত্তার প্রতি চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনা বা নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। প্রায়শই এই ধরনের ঘটনায় নিহতদের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা থাকে। ইসরায়েলি বাহিনী সাধারণত তাদের 'সন্ত্রাসী' হিসেবে আখ্যায়িত করলেও, ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো অনেক সময় তাদের স্থানীয় যোদ্ধা বা বেসামরিক নাগরিক হিসেবে দাবি করে। তবে বুধবারের এই নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে ফিলিস্তিনি পক্ষের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।