সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের উপর একাধিক হামলা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০৩:৪০ পিএম

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের উপর একাধিক হামলা
ছবি: Al Jazeera

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের দক্ষিণে আররাবেহ শহরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই অগ্নিসংযোগের ফলে জলপাই বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একই সময়ে, হেবরন এবং নাবলুস গভর্নরেটেও ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি ধ্বংসের পৃথক ঘটনা ঘটেছে, যা এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াফা (WAFA) জানিয়েছে, জেনিনের নিকটবর্তী অবৈধ বসতি 'ডোথান'-এর কাছ থেকে এসে বসতি স্থাপনকারীরা আররাবেহ শহরের খামার জমি ও জলপাই বাগানের বিশাল অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অসংখ্য জলপাই গাছ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটলো যখন ফিলিস্তিনি কৃষকরা তাদের জলপাই সংগ্রহের চূড়ান্ত মৌসুমে রয়েছেন, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা শুরু করে। ওয়াফার প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যখন অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আররাবেহ শহরে অভিযান চালায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তোলে।

এটিই একমাত্র ঘটনা নয়। শুক্রবার পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলেও বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা নাশকতার খবর পাওয়া গেছে। হেবরন শহরের দক্ষিণে ইয়াত্তা শহরে, বসতি স্থাপনকারীরা প্রায় ১৫টি প্রাচীন জলপাই গাছ কেটে ও ভেঙে ফেলে। স্থানীয় ফিলিস্তিনি সূত্রগুলোর মতে, এই গাছগুলো বহু পুরনো এবং এগুলো স্থানীয়দের জীবিকার অন্যতম উৎস ছিল। এই হামলার ঘটনার পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী ওই গ্রামে প্রবেশ করে এবং সেখানে অভিযান চালায় বলে জানা গেছে।

এছাড়াও, নাবলুস গভর্নরেট থেকেও সম্পত্তি ধ্বংসের খবর এসেছে। আকরাবা শহরের নিকটবর্তী খিরবেত আত-তাওয়িল গ্রামে বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি খামারিদের গবাদি পশুর জন্য সঞ্চিত খাদ্য (খড় ও অন্যান্য) ধ্বংস করে দেয়। পশ্চিম তীরের বিভিন্ন অংশে একযোগে ঘটা এই অগ্নিসংযোগ, গাছ কাটা এবং সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনাগুলো এই অঞ্চলের ভঙ্গুর নিরাপত্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।