রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রা ব্যাহত, রাখালদের ওপর হামলা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ০৫:৩৮ পিএম

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রা ব্যাহত, রাখালদের ওপর হামলা
ছবি: Al Jazeera

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আবারও বাধার মুখে পড়েছে। ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বারা সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতায় শিক্ষাব্যবস্থা ও জীবিকা-উভয়ই হুমকির মুখে পড়েছে বলে ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা (Wafa) রবিবার এই পৃথক ঘটনাগুলোর খবর নিশ্চিত করেছে, যা এই অঞ্চলের চলমান উত্তেজনা এবং ফিলিস্তিনিদের চলাচলের স্বাধীনতা হরণের চিত্রকে আরও স্পষ্ট করেছে।

 

ওয়াফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাবলুস শহরের দক্ষিণে আকরাবা শহরে এই সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা ঘটে। খিরবেত আল-তাওয়িল এলাকার চারণভূমিতে ফিলিস্তিনি রাখালরা তাদের গবাদিপশু চরাচ্ছিলেন। এসময় একদল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী তাদের ওপর চড়াও হয় এবং বলপ্রয়োগ করে তাদের সেখান থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরনের হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

 

প্রায়শই বসতি স্থাপনকারীরা রাখালদের হয়রানি করে এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী চারণভূমি ব্যবহার করতে বাধা দেয়। এই কর্মকাণ্ডকে বৃহত্তর ভূমি দখলের একটি কৌশল হিসেবে দেখা হয়, যার মাধ্যমে অধিকৃত পশ্চিম তীর জুড়ে হাজার হাজার একর জমি ধীরে ধীরে বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এই ধরনের হামলা ফিলিস্তিনি গ্রামীণ সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

 

একই দিনে, জর্ডান উপত্যকা অঞ্চলে ফিলিস্তিনি শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। তুবাস গভর্নরেটের (প্রশাসনিক অঞ্চল) শিক্ষা পরিচালক আজমি বালাভনেহ এই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হামরা এবং তাইয়াসির সামরিক চৌকির মাধ্যমে বহু শিক্ষক তাদের নিজ নিজ স্কুলে যাচ্ছিলেন।

 

কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনী অকারণে তাদের পথ রুদ্ধ করে এবং চলাচলে তীব্র বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে কয়েক ডজন শিক্ষক ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন এবং সময়মতো তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। এই বাধার কারণে ওই অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষাকার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

 

ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রাকে এভাবে সীমাবদ্ধ করে ফেলার এই চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয় 'কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন'-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে পশ্চিম তীর জুড়ে ৮৯৮টি ইসরায়েলি সামরিক চৌকি ও গেট রয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক সামরিক স্থাপনা ফিলিস্তিনিদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতকে মারাত্মকভাবে সীমিত করে রেখেছে, যা তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত জীবনকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।

 

উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকেই এর মধ্যে ১৬৪টি নতুন চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। এই বর্ধিত কড়াকড়ি এই অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে এবং মৌলিক অধিকারগুলো খর্ব করছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে।

 

- Al Jazeera News