তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই বাজেট অনুমোদন করিয়ে আনা বর্তমান জোট সরকারের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা বা 'আপহিল ব্যাটল' হতে চলেছে, যা শেষ পর্যন্ত সরকারকে আগাম নির্বাচনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। স্মোট্রিচের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন।
বাজেটের মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয় বা 'কস্ট অব লিভিং' নিয়ন্ত্রণে আনা। বর্তমানে ইসরায়েল যে ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাতে জনমনে স্বস্তি ফেরানোই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থমন্ত্রী এমন কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে বলে দাবি করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৪ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বাজেট এবং সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, চলতি বছরের শেষের দিকে এই বাজেট পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। জোটের ভেতরের মতপার্থক্য এবং বিরোধী দলের চাপ-সব মিলিয়ে প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘায়িত হতে পারে। এখানেই প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জন্য বড় আইনি ও রাজনৈতিক ঝুঁকি অপেক্ষা করছে।
ইসরায়েলের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, সরকারকে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই আগামী মার্চ মাসের শেষের মধ্যে আইনসভা বা 'নেসেট'-এ এই বাজেট অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। যদি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাজেট পাস না হয়, তবে আইনত বর্তমান সরকার ভেঙে যাবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা আসবে।
যদিও নিয়মানুযায়ী ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, তবে বাজেটের এই জটিল সমীকরণ সেই নির্বাচনকে সময়ের আগেই সামনে নিয়ে আসতে পারে। বাজেট পাস করানো নেতানিয়াহুর জন্য কেবল অর্থনৈতিক এজেন্ডা নয়, বরং রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
জোট সরকারের শরিকদের নানা দাবি-দাওয়া এবং যুদ্ধকালীন অর্থনীতির চাপ সামলে একটি সর্বসম্মত বাজেট তৈরি করা প্রায় অসম্ভবপর কাজ বলে মনে করছেন অনেকে। তাই আজকের এই বাজেট পেশ এবং পরবর্তী কয়েক মাসের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ইসরায়েলের ক্ষমতার পালাবদলে নির্ধারক ভূমিকা পালন করতে পারে। নেতানিয়াহু কি পারবেন মার্চের সময়সীমার মধ্যে বাজেট পাস করিয়ে তার সরকারের মেয়াদ পূর্ণ করতে, নাকি তাকে নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচনী মাঠে নামতে হবে-সেটাই এখন দেখার বিষয়।