শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০২৬ সালের বাজেট পেশ করলেন স্মোট্রিচ, দুগ্ধ শিল্প সংস্কার ও দ্রব্যমূল্য কমানোর কঠোর পদক্ষেপ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:২৮ পিএম

২০২৬ সালের বাজেট পেশ করলেন স্মোট্রিচ, দুগ্ধ শিল্প সংস্কার ও দ্রব্যমূল্য কমানোর কঠোর পদক্ষেপ
ছবি: Flash 90

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী এবং রিলিজিয়াস জায়নজম পার্টির শীর্ষ নেতা বেজালেল স্মোট্রিচ ২০২৬ সালের জাতীয় বাজেটের মূল রূপরেখা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই প্রস্তাবিত বাজেটের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন এবং আগামী ৪ ডিসেম্বর এটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত ভোটের জন্য পেশ করা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

এবারের বাজেটে দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার অসহনীয় ব্যয় কমানোর ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বাজেট উপস্থাপনের পরপরই অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচ তার প্রস্তাবিত দুগ্ধ শিল্প সংস্কারের পক্ষে অত্যন্ত জোরালো ও অনমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি ইসরায়েলের বর্তমান দুগ্ধ বাজারকে "অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত" এবং "অত্যধিক মাত্রায় গুটিকতক প্রতিষ্ঠানের কুক্ষিগত" হিসেবে অভিহিত করেন।

 

স্মোট্রিচের মতে, এই সংস্কার কেবল একটি নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর চাপ কমানোর একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বাজার ব্যবস্থা মুষ্টিমেয় কিছু প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া আধিপত্য বা মনোপলি বজায় রেখেছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। তারা বাধ্য হচ্ছেন চড়া দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় দুগ্ধজাত পণ্য কিনতে।

 

এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, "জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে আমরা এই বাজেটে যে ধারাবাহিক ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপগুলো নিচ্ছি, তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো দুধের বাজার সংস্কার।" তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল এই সংস্কার কার্যক্রম ভেস্তে দিতে তার বিরুদ্ধে নির্লজ্জ ও মিথ্যা অপপ্রচার বা 'স্মিয়ার ক্যাম্পেইন' চালাচ্ছে।

 

স্মোট্রিচ দৃঢ়তার সাথে বলেন, এই অপপ্রচারের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান একচেটিয়া বাজার ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা এবং ভোক্তাদের জিম্মি করে বিশাল মুনাফা করার সুযোগ বহাল রাখা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সরকার কোনোভাবেই এই অন্যায্য ব্যবস্থার কাছে নতি স্বীকার করবে না। প্রস্তাবিত সংস্কারের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েল সরকার দুধ আমদানির ওপর বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক বা ট্যারিফ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

 

অর্থমন্ত্রীর যুক্তি, বিদেশি দুধ আমদানির সুযোগ অবারিত করলে স্থানীয় বাজারে প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং পণ্যের সরবরাহ বাড়বে। অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়মেই তখন একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়বে এবং দুধের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এবং বাজারের দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকার যে আপসহীন অবস্থানে রয়েছে, এই বাজেট প্রস্তাবনা তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।

 

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের এই বাজেট এবং বিশেষ করে দুগ্ধ খাতের সংস্কার প্রস্তাবটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক-উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে সরকারের এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা আগামী দিনের কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করছে। তবে ৪ ডিসেম্বরের মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে তা ইসরায়েলের ভোক্তা বাজারে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

- Times Of Israel